তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ সাংসদের নতুন ডেরা! নবান্নের ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে NCPI অফিসে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্য রাজনীতিতে ধামাকা দিয়ে পথ চলা শুরু করতেই নজিরবিহীন পদক্ষেপ মোদী সরকারের। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ ২০ জন লোকসভা সাংসদের নতুন রাজনৈতিক দল ‘এনসিপিআই’ (NCPI)-এর কার্যালয় ঘিরে ফেলল কেন্দ্রীয় বাহিনী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে হাওড়ার হাটগাছা-বনিপুর এলাকায় অবস্থিত এই দলীয় অফিসের সুরক্ষায় ইতিমধ্যেই মোতায়েন করা হয়েছে সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানদের।
গতকাল রবিবারই লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদদের নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার ঘোষণা করেছিলেন, তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগ দিচ্ছেন এবং এই দল এনডিএ (NDA)-র শরিক হিসেবে মোদী সরকারকে সমর্থন জানাবে। এই ঘোষণার পরই দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতে ২০ জন সাংসদ ঘাসফুল শিবির ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ছোট দলটির সাথে নিজেদের ‘মার্জ’ বা শামিল করে নেন।
নবান্ন থেকে আধ ঘণ্টার দূরত্বে নয়া রণক্ষেত্র:
নবান্ন থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের দূরত্বে হাওড়ার সাঁকরাইলের হাটগাছা গ্রামে রয়েছে এই NCPI-এর কার্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই অফিসটিই এখন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় ও সায়নী ঘোষদের মূল ঠিকানা হতে চলেছে। সূত্রের খবর, যেকোনো মুহূর্তে এই কার্যালয়ের তালা খুলে সেখানে বসতে পারেন তৃণমূলত্যাগী এই ২০ সাংসদ। ফলে তৃণমূলের তরফে তীব্র বিক্ষোভ বা যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগেভাগেই দিল্লির নির্দেশে নিচ্ছিদ্র সুরক্ষায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা চত্বর।
ত্রিপুরায় জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া দলই এখন ‘বাংলার বৃহত্তম’!
রাজনৈতিক মহলে এই NCPI-কে নিয়ে এখন জোর হাসাহাসিও চলছে। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে কৈলাশহর ও চৌমানু আসনে প্রার্থী দিয়ে খাতা খোলা তো দূরের কথা, ভোট শতাংশের তলানিতে ঠেকে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল এই দলের। তবে কাকলি-সুদীপরা যোগ দিতেই রাতারাতি ভাগ্যবদল হয়েছে তাদের। দলের ফেসবুক পেজে ইতিমধ্যেই একটি গ্রাফিক পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে— লোকসভার সাংসদ সংখ্যার বিচারে ওরাই নাকি এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল! সব মিলিয়ে, এনসিপিআই-এর এই ঝোড়ো ইনিংস ঘিরে এখন ফুটছে বাংলার রাজনীতি।