দুর্নীতি রুখে স্বচ্ছ তালিকা, নন্দীগ্রামে মধ্যস্বত্বভোগী শূন্য করার কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর!

পূর্বতন সরকারের আমলের দুর্নীতি ও অনিয়ম মুছে ফেলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দিতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল বর্তমান রাজ্য সরকার। সোমবার নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় ‘জনকল্যাণ শিবিরের’ উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পেতে রাজ্যে আর কোনও মধ্যস্বত্বভোগীর অস্তিত্ব থাকবে না। সশরীরে উপস্থিত হয়েই সাধারণ মানুষকে এই শিবিরের মাধ্যমে সরাসরি সরকারি সুবিধা গ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
লক্ষ্য দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের মূল কারণ হল পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া ব্যাপক দুর্নীতি। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতে মৃত ব্যক্তি, পুরুষ এবং অভারতীয়দের নামেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও বিধবা ভাতার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এমনকি ডোমকলের একটি ব্লকেই মিলেছে সাড়ে ৩ হাজার ভুয়ো অ্যাকাউন্ট। এই ধরনের আর্থিক তছরুপ ও বেনিয়ম চিরতরে বন্ধ করতেই বর্তমান প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অনুপ্রবেশকারী বা অযোগ্য ব্যক্তিরা যাতে কোনওভাবেই অন্নপূর্ণা যোজনার মতো প্রকল্পের সুবিধা না পান, তা নিশ্চিত করতে একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
উন্নয়নের রূপরেখা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই স্বচ্ছতা অভিযানের ফলে রাজ্যের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে। রাজ্যের ১১০০টি স্থানে আয়োজিত এই শিবিরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ৫৪টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, যা সরাসরি প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে। ইতিমধ্যে ৭৯ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছে গিয়েছে। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় নাম নথিভুক্তির সুযোগ থাকছে এবং বেনিয়ম রুখতে চালু হচ্ছে টোল-ফ্রি নম্বর। পাশাপাশি জুলাই মাস থেকে আয়ুষ্মান কার্ড প্রদান, রাস্তাঘাট সংস্কার, পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ এবং কর্মসংস্থান ও ব্যবসার জন্য ঋণ প্রদানের মতো পদক্ষেপগুলি রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করবে। আগামী ২২ জুনের বাজেটেও এই জনকল্যাণমুখী রূপরেখার বিশেষ চমক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।