কৃষক বন্ধুর জায়গায় এবার পিএম কিষাণ, বাংলার কৃষি খাতে বড়সড় রদবদল!

পশ্চিমবঙ্গের কৃষি ক্ষেত্রে এক বড়সড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের নিজস্ব ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্প বন্ধ করে এবার বাংলার যোগ্য চাষিদের কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি’ বা পিএম কিষাণ যোজনার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। রাজ্যের নতুন কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই কৃষক বন্ধু প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত অযোগ্য উপভোক্তাদের বাদ দিয়ে প্রকৃত ও যোগ্য চাষিদের কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়াই এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য।
তালিকায় অসঙ্গতি ও প্রকল্প বদলের কারণ
এই বড়সড় সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে উপভোক্তা তালিকার এক বিশাল অসঙ্গতি। সর্বশেষ কৃষি জনগণনা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে মোট চাষির সংখ্যা প্রায় ৭২ লক্ষ। অথচ রাজ্যের ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পে নথিভুক্ত উপভোক্তার সংখ্যা বর্তমানে ১.১৪ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। রাজ্যের মোট চাষির সংখ্যার চেয়ে উপভোক্তার সংখ্যা কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ বৃদ্ধি পেল, তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে বড় প্রশ্ন উঠেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বহু অযোগ্য ব্যক্তি নিয়ম বহির্ভূতভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন। এই সরকারি অর্থের অপচয় রুখতেই তালিকা পুনর্বিবেচনা করে প্রকৃত কৃষকদের কেন্দ্রীয় যোজনার অধীনে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজ্য কোষাগারে স্বস্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই প্রকল্প পরিবর্তনের ফলে রাজ্যের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এক বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে। বর্তমানে ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের আওতায় এক একর বা তার বেশি জমি থাকলে বছরে ১০ হাজার টাকা এবং এক একরের কম জমি থাকলে ন্যূনতম ৪ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এই প্রকল্প চালাতে গিয়ে রাজ্য সরকারকে প্রতি বছর নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ করতে হয়। পিএম কিষাণ যোজনা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা অর্থায়িত হওয়ায়, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রাজ্য সরকারকে আর কোনো আর্থিক দায় বহন করতে হবে না। এর ফলে একদিকে যেমন রাজ্য কোষাগারের ওপর থেকে বিপুল আর্থিক বোঝা কমবে, অন্যদিকে তেমনই কেন্দ্রীয় সহায়তার মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের কাছে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।