সুদীপের বিদ্রোহের মাঝেই মমতার পাশে দাঁড়ালেন নয়না, জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দিলেন কড়া বার্তা!

উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক দলবদলের পর তাঁর স্ত্রী তথা চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। তবে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে নয়না স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসেই থাকছেন এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশ থেকে সরছেন না। স্বামীর ভিন্ন রাজনৈতিক পদক্ষেপের মধ্যেও নিজের এই সিদ্ধান্তে অনড় থেকে তিনি তৃণমূল শিবিরের সাময়িক অস্বস্তি লাঘব করলেন।
‘দিদিই আমার দুর্গা’, আনুগত্যে অনড় চৌরঙ্গীর বিধায়ক
বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ২০ জন সাংসদ নতুন দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই) গঠন করে এনডিএ-কে সমর্থনের কথা ঘোষণা করার পরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ওঠে, নয়নাও হয়তো স্বামীর পথ অনুসরণ করবেন। এই পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি সবসময় নিজের নেত্রী মেনে এসেছেন এবং সেটাই তাঁর কাছে একমাত্র সত্য। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে দিদির সঙ্গেই আছি। তিনি আমাকে ছেড়ে যেতে পারেন, কিন্তু আমি তাঁকে ছেড়ে যাব না। যাঁকে আমি আমার দুর্গা বলে ডেকেছি, তাঁকে কীভাবে ছেড়ে যেতে পারি?” স্বয়ং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্বীকার করেছেন যে তিনি স্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও নয়না তাঁর সিদ্ধান্ত বদল করেননি। একই পরিবারে থেকে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক দল করার একাধিক দৃষ্টান্তও তিনি তুলে ধরেন।
দলীয় আক্রমণ ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপের কারণে দলের অন্দরেই তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল নয়নাকে। বিশেষ করে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পর নয়নার দলবদলের জল্পনা আরও তীব্র রূপ নেয়। দলীয় সহকর্মীদের এই ব্যক্তিগত আক্রমণে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত বলে জানিয়েছেন এবং এই বিষয়ে ইতিমধ্যে দলনেত্রীর কাছে অভিযোগও জানিয়েছেন। এই ঘটনার প্রভাব হিসেবে দেখা যাচ্ছে, একদিকে যেমন বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারে রাজনৈতিক মেরুকরণ স্পষ্ট হলো, অন্যদিকে তৃণমূলের বড়সড় ভাঙনের মাঝেও চৌরঙ্গীর বিধায়কের এই অনড় অবস্থান কলকাতার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতকে শক্ত করল।