প্যাকেটের গায়ে ‘হেলদি’ বা ‘জিরো ময়দা’ লিখে গ্রাহক ঠকানোর দিন শেষ! কড়া অ্যাকশনে FSSAI

প্যাকেটের গায়ে ‘হেলদি’ বা ‘জিরো ময়দা’ লিখে গ্রাহক ঠকানোর দিন শেষ! কড়া অ্যাকশনে FSSAI

বর্তমান সময়ে সুস্থ ও সতেজ থাকতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। শরীরচর্চার পাশাপাশি প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকায় অনেকেই রাখছেন ‘হেলদি’, ‘অর্গানিক’, ‘ভেগান’ কিংবা ‘জিরো ময়দা’র মতো বিশেষ তকমাযুক্ত খাবার। তবে সাধারণ মানুষের এই স্বাস্থ্য সচেতন জীবনযাত্রাকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও নামী ব্র্যান্ড বিপণনের ফাঁদ পেতেছে বলে প্রমাণ পেয়েছে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (FSSAI)। বিজ্ঞাপনের চটকদার ও বিভ্রান্তিকর দাবি ব্যবহার করে গ্রাহকদের প্রতারিত করার অভিযোগে একাধিক জনপ্রিয় খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাকে নোটিস পাঠিয়েছে দেশের এই শীর্ষ নিয়ামক সংস্থা।

সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, পণ্যের গুণগত মান ও উপাদানের প্রকৃত তথ্যের সাথে প্যাকেটের গায়ের চটকদার প্রচারের কোনো মিল নেই। FSSAI আইন, ২০০৬-এর বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘন করে তৈরি করা এসব বিভ্রান্তিকর ব্র্যান্ড নেম এবং প্রোপাগান্ডা বন্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা শুরু হয়েছে। একই সাথে সমস্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে খাদ্যপণ্যের লেবেলিং ও ডিসপ্লে সংক্রান্ত সরকারি নিয়মাবলি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নামেই স্বাস্থ্যকর, উপাদানে গলদ

তদন্তে নেমে একাধিক নামী ব্র্যান্ডের প্রতারণার কৌশল হাতেনাতে ধরেছে নিয়ামক সংস্থা। যেমন, ‘হেলদি মাস্টার’ ব্র্যান্ডের ‘ভিশন টু সার্ভ হেলদি’ ট্যাগলাইনটি গ্রাহকদের মনে পণ্য সম্পর্কে অতিরঞ্জিত ও ভুল ধারণা তৈরি করছে বলে জানানো হয়েছে। ‘Neuherbs’ কো ম্পা নির মাল্টিভিটামিন ব্র্যান্ড ‘True Vitamin’-এর নামটিকেও বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একইভাবে, ‘Health Factory’র ‘জিরো ময়দা হোল হুইট ব্রেড’ এবং ‘Healthy Food Factory’র ‘জিরো ময়দা পিজ্জা বেস’ পণ্যের ল্যাব টেস্টে এমন কিছু উপাদান পাওয়া গেছে যা তাদের ‘জিরো ময়দা’র দাবিকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দেয়। অন্যদিকে, ‘Storia Pomegranate Juice’ ডালিমের খাঁটি রস বলে বাজারে বিক্রি হলেও, এতে মাত্র ৪ শতাংশ ডালিমের জুস কনসেন্ট্রেট বা নির্যাস মিলেছে।

অনুমোদনহীন অর্গানিক ও ভেগান পণ্যের মেলা

প্রয়োজনীয় সরকারি সংশাপত্র, অনুমোদন এবং ‘জৈবিক ভারত’ (Jaivik Bharat) লোগো ছাড়াই বাজারে দেদারছে বিক্রি হচ্ছিল বিভিন্ন তথাকথিত অর্গানিক পণ্য। এই তালিকায় রয়েছে অর্গানিক উইজডম, শাইন অর্গানিক, টু ব্রাদার্স অর্গানিক ফার্মস এবং ওয়ার্ল্ড অফ অর্গানিকের মতো ব্র্যান্ডগুলো। পাশাপাশি, ‘Plan B Plant Based Vegan’ নামক সংস্থাটি ভেগান খাদ্যের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ছাড়পত্র না নিয়েই বাজারে ব্যবসা ফেঁদে বসেছিল। চিপস ও চিঁড়ের ক্ষেত্রেও ‘Troovy’র ভেজি চিপস, রাগী চিপস এবং ‘হেলদি চয়েস হেলদি ফুড অব হেলদি লাইফ পোহা’ ব্র্যান্ডের উপাদানের মধ্যে ‘হেলদি’ বা স্বাস্থ্যকর দাবির কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পায়নি FSSAI। এমনকি ‘ইমামি হেলদি অ্যান্ড টেস্টি’ ও ‘হেলথ এইড’ রান্নার তেলের ক্ষেত্রেও পণ্যের গুনাগুণ নিয়ে অতিরঞ্জিত প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্যাকেটজাত পানীয় জলের ক্ষেত্রে ‘Lota Water’ প্রক্রিয়াকরণের সময় হারিয়ে যাওয়া খনিজ উপাদান পুনরায় যোগ করে সেটিকে বিশেষ গুণ হিসেবে প্রচার করছিল, যা আইনত দণ্ডনীয়। মূলত বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতে এবং পুষ্টিগুণ, ভেগান বা অর্গানিক সার্টিফিকেশনের নামে গ্রাহকদের সরলতার সুযোগ নিয়ে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার এই অপচেষ্টা রুখতেই সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। FSSAI-এর এই আকস্মিক অভিযানে দেশের খাদ্য বাজারে বড়সড় পরিবর্তনের হাওয়া লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *