‘বন্দে মাতরম’ না গাইলে বন্ধ হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা? নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে বড় হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

কলকাতা: যারা ‘বন্দে মাতরম’ বা জাতীয় সঙ্গীত গাইতে চায় না, তারা কেন সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার)-সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবে? সোমবার নন্দীগ্রামের এক জনকল্যাণ শিবির থেকে ঠিক এই ভাষাতেই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিনের অনুষ্ঠান থেকে নাম না করে একটি বিশেষ অংশের দিকে ইঙ্গিত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কিছু মানুষ নিজেদের সন্তানদের সরকারি টিকা দেয় না। এমনকি তারা সন্তানদের সরকারি স্কুলেও ভর্তি করায় না। উল্টে এমন সব প্রতিষ্ঠানে পাঠায় যেখানে বন্দে মাতরম বা জাতীয় সঙ্গীত পর্যন্ত গাওয়া হয় না। তাহলে তারা কেন সরকারি সুবিধা পাবে? এই কারণেই এবার থেকে সবাইকে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে।”
পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের কড়া বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে, বাংলাদেশ থেকে কেউ এসে এখানে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য, “আপনারা সবাই দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী। আপনারা নিশ্চয়ই চাইবেন না যে ওপার বাংলা থেকে কেউ এসে আপনাদের হকের টাকা বা সুবিধা নিয়ে চলে যাক।”
তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে আক্রমণ ও ভুয়ো অ্যাকাউন্টের পর্দাফাঁস:
এদিন জনকল্যাণ শিবির থেকে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়ে তিনি দাবি করেন, “তৃণমূল কংগ্রেস জনগণের টাকা লুঠ করেছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়েছিল যে পুরুষদের নামে বিধবা ভাতা দেওয়া হয়েছে! এমনকি মুর্শিদাবাদের ডোমকলে ৩,৫০০টি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ধরা পড়েছে, যেগুলির মাধ্যমে সংখ্যালঘু বৃত্তির টাকা নয়ছয় করা হয়েছে।” তবে দুর্নীতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে ইতিমধ্যেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া শুরু হয়েছে এবং প্রায় ৭৯ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে গিয়েছে বলেও তিনি জানান।
১ জুলাই থেকে ১২৫ দিনের কাজ ও বড় ঘোষণা:
রাজ্যের কর্মসংস্থান নিয়ে এদিন বড় চমক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, “আমরা ইতিমধ্যেই ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প চালু করেছি। আগামী ১ জুলাই থেকে আপনারা ১২৫ দিনের কাজ পাবেন। এর জন্য সরকারের তরফে ৮,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।”
এর পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষা ও অনুপ্রবেশ বন্ধ করে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও তাঁর সরকার সমস্ত রকম কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং রাজ্যে জনগণনা (Census) শুরুর প্রক্রিয়াও সরকার হাত নিয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।