কলকাতায় গিনেস রেকর্ডের লক্ষ্যে মোদীর মেগা যোগাভ্যাস, প্রস্তুতিতে কোমর বাঁধছে প্রশাসন

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল মঞ্চ হিসেবে এবার সেজে উঠছে তিলোত্তমা কলকাতা। আগামী ২১ জুন যোগ দিবসের মূল কর্মসূচিতে অংশ নিতে পশ্চিমবঙ্গে উপস্থিত থাকছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে আয়োজিত এই মেগা অনুষ্ঠানে খোদ প্রধানমন্ত্রীকে ৪৫ মিনিট ধরে যোগাভ্যাস করতে দেখা যাবে। এই প্রথমবার রেড রোডে এত বড় পরিসরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে, যা সরাসরি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তোলার দৌড়ে শামিল হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার মানুষের সমাগমে প্রধানমন্ত্রীর এই যোগাভ্যাসকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে।
রেকর্ডের লক্ষ্যে মেগা আয়োজন
কেন্দ্রের এই মেগা অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুরসভাকে। রেড রোডের মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গোটা শহরজুড়েই ওই দিন বিশেষ যোগা সেশনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পুরসভার প্রতিটি বোরোর ৩ থেকে ৪টি বড় পার্ক বা খেলার মাঠকে এই কাজের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া মোহর কুঞ্জ, রবীন্দ্র সরোবরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং গঙ্গার পাড়েও সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ যোগাভ্যাসের ব্যবস্থা থাকছে। প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির এই ধারাকে তুলে ধরতে এবার ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’ থিমকে সামনে রাখা হয়েছে। এমনকি ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী হাওড়া ব্রিজের একপাশের ফুটপাতে ‘গঙ্গা যোগা করিডর’ থিমে এক বিশেষ যোগাসন কর্মসূচির নকশা তৈরি করেছে প্রশাসন।
ব্যস্ততা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিশাল আয়োজনকে কেন্দ্র করে পুরকর্তা ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কলকাতায় এই স্তরের আন্তর্জাতিক আয়োজন রাজ্যের ক্রীড়া, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং পর্যটন ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক বার্তা দেবে। একই সঙ্গে গিনেস রেকর্ডের এই প্রচেষ্টা বিশ্বমঞ্চে কলকাতার ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করতে পারে। ইতিমধ্যেই ৭ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন থিমের ওপর যোগা কার্নিভাল শুরু হয়ে গেছে, যার অংশ হিসেবে আগামী ১৯ জুন ‘দৌড় সে ধ্যান’ এবং ২০ জুন হুগলি নদীর তীরে ড্রোন কার্নিভ্যাল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে।