১০০ দিনের কাজ এবার ১২৫ দিন, আবাস যোজনায় বঞ্চনার অভিযোগ জানাতে টোল ফ্রি নম্বর দিলেন শুভেন্দু!

রাজ্যবাসীর দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে নন্দীগ্রামে চালু হল ‘জনকল্যাণ শিবির’। রাজ্যে তিন দিনের জন্য ১১০০টি স্থানে আয়োজিত এই শিবিরগুলি থেকে মানুষ রাজ্য ও কেন্দ্রের ৫৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। নতুন সরকারের পাঁচ সপ্তাহ পূর্তিতে এই কর্মসূচির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী মূলত গ্রামীণ অর্থনীতি ও আবাস যোজনা নিয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করেছেন।
আবাস যোজনায় স্বচ্ছতা আনতে কড়া পদক্ষেপ
রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনার সমীক্ষা শুরু হয়েছে। আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ থাকবে। তবে সমীক্ষা বা তালিকা তৈরিতে কোনো অনিয়ম যাতে না হয়, সেদিকে কড়া নজর রেখেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যোগ্য ব্যক্তিরা সার্ভে থেকে বঞ্চিত হলে বা কোনো অনিয়ম নজরে এলে সরাসরি সরকারের টোল-ফ্রি নম্বর ৮২৮২০৮২৮২০-এ ফোন করে বা asap@wb.gov.in-এ ইমেল করে অভিযোগ জানানো যাবে। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনিক এই পদক্ষেপের ফলে সরকারি পরিষেবা প্রদানে আরও স্বচ্ছতা আসবে এবং প্রকৃত উপভোক্তারা কোনো রকম হয়রানি ছাড়াই সরাসরি উপকৃত হবেন।
১০০ দিনের কাজে স্বস্তি, মিলবে ১২৫ দিনের মজুরি
দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে রাজ্যে ফের আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে একশো দিনের কাজ (MGNREGS)। গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য স্বস্তির খবর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ জুলাই থেকে ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিনের কাজ পাবেন রাজ্যের সাধারণ মানুষ। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক চলতি জুন মাসের জন্য পশ্চিমবঙ্গে ১.৫৩ কোটি শ্রম দিবস মঞ্জুর করেছে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষাতেও জোর দিয়েছে নতুন সরকার। ইতিমধ্যেই ৭৯ লক্ষ মহিলাকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বার্ধক্য ভাতা বা বিধবা ভাতার মতো অন্যান্য পরিষেবা পেতে কোনো সমস্যা হলেও ওই একই হেল্পলাইন নম্বরে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানো যাবে। এই সামগ্রিক উদ্যোগ রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিকে মজবুত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।