জাতীয়তাবাদ না মানলে মিলবে না সরকারি সুবিধা, নন্দীগ্রাম থেকে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

জাতীয়তাবাদ না মানলে মিলবে না সরকারি সুবিধা, নন্দীগ্রাম থেকে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধ ও জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে এবার অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের এক জনকল্যাণ শিবির থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা দেশের জাতীয় সঙ্গীত বা ‘বন্দে মাতরম’কে সম্মান জানায় না, তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হতে পারে না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রীয় অনুগত্যের ভিত্তিতেই আগামী দিনে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বণ্টন করা হতে পারে, যা রাজ্যের বর্তমান রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

জাতীয়তাবাদ ও সরকারি সুবিধার যোগসূত্র

নন্দীগ্রামের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সমাজের একটি অংশ সচেতনভাবে দেশের মূল স্রোত থেকে নিজেদের দূরে রাখছে। তিনি বলেন, কিছু মানুষ সন্তানদের প্রয়োজনীয় টিকা দেয় না এবং সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি না করিয়ে এমন কিছু প্রতিষ্ঠানে পাঠায় যেখানে বন্দে মাতরম বা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয় না। এই মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ধরনের নাগরিকরা কেন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করবেন? এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্যই এখন থেকে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। একই সাথে সীমান্ত পারের অনুপ্রবেশকারীদের কড়া বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ থেকে এসে কেউ এ রাজ্যের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে না।

দুর্নীতি দমন ও নতুন প্রকল্পের রূপরেখা

ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী পূর্বতন সরকারের আমলের বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও ভুয়ো অ্যাকাউন্টের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের টাকা ব্যাপকভাবে লুট হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি মুর্শিদাবাদের ডোমকলে সংখ্যালঘু বৃত্তির টাকা বিতরণে সাড়ে তিন হাজার ভুয়ো অ্যাকাউন্ট পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। এই ধরনের অনিয়ম রুখতে তাঁর সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে এই কড়াকড়ির মধ্যেও ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ৭৯ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সফলভাবে টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

কর্মসংস্থান ও সীমান্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধি

রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে মুখ্যমন্ত্রী একটি বড় ঘোষণা করেছেন। আগামী ১ জুলাই থেকে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের পরিধি বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হচ্ছে, যার জন্য রাজ্য সরকার ৮,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এর পাশাপাশি রাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং দেশের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার কেন্দ্রীয় নীতি মেনে কাজ করছে। বর্তমানে রাজ্যে জনসংখ্যা গণনার কাজও শুরু হয়েছে, যা অনুপ্রবেশ রুখতে এবং প্রকৃত নাগরিকদের চিহ্নিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *