পুরীর রথযাত্রার প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে, রঙের ছোঁয়ায় সাজছে মহাপ্রভুর রথ

পুরীর রথযাত্রার প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে, রঙের ছোঁয়ায় সাজছে মহাপ্রভুর রথ

বিশ্ববিখ্যাত পুরীর বার্ষিক রথযাত্রার প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী ১৬ই জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রভু জগন্নাথ, প্রভু বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রার তিনটি নতুন রথ নির্মাণের কাজ জোরকদমে এগিয়ে চলছে। ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি কঠোরভাবে মেনে মহারানা সেবায়েতরা দিনরাত এক করে কাজ করছেন। শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই রথ নির্মাণের প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কাজও নির্দিষ্ট সময়সূচী মেনেই এগোচ্ছে।

জটিল কাঠের খোদাই ও রঙের কাজ শেষের পথে

অক্ষয় তৃতীয়ার দিন প্রথাগত পুজো ও মন্দিরের আজ্ঞা মালা পরার মধ্য দিয়ে এই রথ নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। বর্তমানে রূপকার সেবকরা রথের জটিল কাঠের কাঠামো, যেমন— কোণার বন্ধনী (কোনা গুজ), সিংহের মূর্তি, সিংহাসন এবং রথের চারপাশের ‘নাট গোদা’ মূর্তির খোদাইয়ের কাজ করছেন। ইতিমধ্যে রথের মূল সিংহাসন তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি চিত্রকর সেবকরাও রথকে অলঙ্কৃত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। প্রতিটি রথের জন্য নির্ধারিত ১১টি ‘পার্শ্ব দেবতা’ আঁকার কাজ চলছে, যার পর কলস, শুয়া এবং ‘নাট বর সখী’ মূর্তিগুলি রঙে সাজিয়ে তোলা হবে।

সুষ্ঠু উৎসব পরিচালনা ও ভিড় সামলাতে ব্যাপক প্রস্তুতি

২৯শে জুন দেবস্নান পূর্ণিমা এবং ১৬ই জুলাই মূল রথযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে মন্দির প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ছত্তিশা নিজোগ ও মন্দির পরিচালন কমিটির বৈঠকে সেবকদের সাথে সমন্বয় করে সব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। উৎসবের দিনগুলিতে বিপুল ভক্ত সমাগমের কারণে ভিড় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। ভক্তদের জন্য কর্ডন ব্যবস্থা বজায় রাখা, সঠিক পার্কিং, নিরবচ্ছিন্ন তথ্য সরবরাহ এবং গরমের স্বস্তির জন্য জলের স্প্রে করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ট্রেন ও অন্যান্য পরিবহনে আসা লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীর নিরাপত্তা ও যাতায়াত সুগম করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর সাথে যৌথভাবে কাজ করছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *