তৃণমূলে নজিরবিহীন ধস! ২০ সাংসদ নিয়ে এনডিএ জোটে যোগ দিচ্ছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার

তৃণমূলে নজিরবিহীন ধস! ২০ সাংসদ নিয়ে এনডিএ জোটে যোগ দিচ্ছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার

জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসে এক নজিরবিহীন ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বড় ধাক্কা দিয়ে লোকসভার ২০ জন তৃণমূল সাংসদ দল ছাড়ার ঘোষণা করেছেন। প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-র সাথে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নাটকীয় দলবদলের পর নতুন জোটটি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি-নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সকে (এনডিএ) সমর্থন করার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।

সিদ্ধান্ত নিয়ে ধোঁয়াশায় এনসিপিআই সম্পাদক

এই আকস্মিক রাজনৈতিক সংযুক্তিকরণের খবরে খোদ এনসিপিআই-এর অন্দরেও কিছুটা বিস্ময় তৈরি হয়েছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা তথা জাতীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শান্তনু দে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের কথা তিনি প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়া এবং খবরের মাধ্যমেই জানতে পারেন। দলের সভাপতি এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলেও তাঁর সাথে আগে থেকে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তবে দলের স্বার্থে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে শান্তনু দে বলেন, দল বড় হলে দেশের স্বার্থে কাজ করার পরিধি বাড়বে। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে জানান, দলের উন্নতির জন্য তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের সাথে দ্রুত দিল্লিতে বৈঠকে বসার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

দলত্যাগের কারণ ও জাতীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত রাজনৈতিক অসন্তোষ এবং তীব্র অস্থিরতাই এই গণ-দলত্যাগের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, তাঁরা সংসদে তৃণমূলের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি, যার ফলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতা থেকে তাঁরা মুক্ত থাকবেন। ইতিমধ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে সংসদে আলাদা বসার জন্য একটি চিঠি জমা দিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি স্পষ্ট করেছেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গতিশীল নেতৃত্বে কাজ করতেই তাঁরা এনডিএ-র সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এই ঘটনার ফলে একদিকে যেমন সংসদে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে, অন্যদিকে লোকসভায় এনডিএ-র অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে, যা আগামী দিনে দেশের জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ অনেকটাই বদলে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *