ভরাডুবির মাঝে জিতেই বেপাত্তা, ভগবানগোলার তৃণমূল বিধায়কের নামে পড়ল নিখোঁজ পোস্টার!

ভরাডুবির মাঝে জিতেই বেপাত্তা, ভগবানগোলার তৃণমূল বিধায়কের নামে পড়ল নিখোঁজ পোস্টার!

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের মাত্র এক মাস কাটতে না কাটতেই নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে দলে তীব্র সাংগঠনিক ভাঙন, অন্যদিকে জয়ী বিধায়কদের ঘিরে তৈরি হচ্ছে তীব্র জনরোষ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার তৃণমূল বিধায়ক রেয়াত হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে এলাকায় ‘নিখোঁজ’ পোস্টার পড়েছে। সোমবার সকালে ভগবানগোলা রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এই পোস্টারগুলি দেখা যায়, যা নিয়ে গোটা রাজনৈতিক মহলে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পোস্টারগুলিতে লেখা রয়েছে, ‘ভোটের আগে কত কথা, ভোট ফুরোলে যায়নি দেখা।’

উচ্ছেদ অভিযান এবং জনরোষের কারণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভগবানগোলা রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে একটি উচ্ছেদ অভিযান চলছে। এর ফলে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকটের মুহূর্তে অসহায় মানুষজন তাঁদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে পাশে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশই ক্ষোভের বশে এই পোস্টারগুলি লাগিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে এর পিছনে নির্দিষ্ট কোনও সংগঠন বা ব্যক্তি রয়েছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।

জনরোষের আঁচ অবশ্য রবিবার রাতেই টের পেয়েছিলেন বিধায়ক। রানিতলা থানার দিকে যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে কালো পতাকা দেখানো হয় এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। সেই সময় বিধায়কের অনুগামী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সকালে এই নিখোঁজ পোস্টারগুলি দৃশ্যমান হয়।

দলের অভ্যন্তরীণ সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব

চলতি বছরের মে মাসে রাজ্য বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, ২৯৪ আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টিতে জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের এই ভরাডুবির মাঝেও ভগবানগোলা আসনটি রক্ষা করতে সমর্থ হন ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে জয়ী বিধায়ক রেয়াত হোসেন সরকার। কিন্তু ভোটের পর থেকে যেভাবে তৃণমূল নেতাদের জনরোষের মুখে পড়তে হচ্ছে, তাতে জয়ী বিধায়কদের অনেকেই এখন এলাকাছাড়া বা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।

বর্তমানে তৃণমূলের অভ্যন্তরে বড়সড় ভাঙন ধরেছে এবং একটি বড় অংশ নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে বিরোধী আসনে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ভগবানগোলার এই ঘটনা আগামী দিনে জয়ী তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এলাকার মানুষের এই বিক্ষোভ দলের বাকি অংশের ওপর বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করবে। তবে এই পুরো বিষয়ে বিধায়ক রেয়াত হোসেন সরকারের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *