ছোট সঞ্চয়ে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন সত্যি করছে পোস্ট অফিসের বাম্পার স্কিম!
.jpeg.webp?w=1200&resize=1200,800&ssl=1)
বর্তমান সময়ে অর্থ উপার্জন করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ মানুষ সর্বদা এমন মাধ্যম খোঁজেন যেখানে বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকার পাশাপাশি মোটা অঙ্কের রিটার্ন পাওয়া যাবে। নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগের জন্য পোস্ট অফিস দ্বারা পরিচালিত সরকারি প্রকল্পগুলো বরাবরই বেশ জনপ্রিয়। এমনই একটি আকর্ষণীয় সরকারি প্রকল্প হলো পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট বা আরডি স্কিম, যেখানে নিয়মিত অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে ২৫ লক্ষ টাকার একটি বড় তহবিল তৈরি করা সম্ভব।
১০০ টাকা দিয়ে শুরু ও সরকারি নিরাপত্তা
শেয়ার বাজার বা অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ঝুঁকি থাকলেও পোস্ট অফিসের এই প্রকল্পে ঝুঁকির কোনো অবকাশ নেই। যেহেতু এটি সম্পূর্ণ সরকারি প্রকল্প, তাই বিনিয়োগ করা অর্থের নিরাপত্তা সরকার নিজেই নিশ্চিত করে। ফলে গ্রাহকরা নিশ্চিন্তে এখানে টাকা রাখতে পারেন। বর্তমানে সরকার পোস্ট অফিস আরডি প্রকল্পের অধীনে বার্ষিক ৬.৭ শতাংশ হারে সুদের সুবিধা দিচ্ছে। দেশের যেকোনো প্রান্তের নিকটস্থ পোস্ট অফিসে গিয়ে মাত্র ১০০ টাকা জমা দিয়েই এই অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব। গ্রাহকরা একক বা যৌথভাবেও এই আরডি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবেন।
৫ বছরের মেয়াদ বৃদ্ধি ও কঠোর নিয়ম
সাধারণত এই রেকারিং ডিপোজিটের মেয়াদ ৫ বছর নির্দিষ্ট করা থাকে। তবে গ্রাহকরা চাইলে পরবর্তী সময়ে আরও ৫ বছরের জন্য এই স্কিমের মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারেন। দীর্ঘ মেয়াদে টাকা রাখলে সুদের চক্রবৃদ্ধি হারের কারণে রিটার্নের পরিমাণ একলাফে অনেকটা বেড়ে যায়। তবে এই বাম্পার সুবিধা উপভোগ করতে হলে কিছু নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট সময়ে প্রতি মাসের কিস্তি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো মাসে কিস্তি দিতে ভুল হলে প্রতি মাসে ১ শতাংশ হারে জরিমানা করা হয় এবং পরপর চারটি কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে অ্যাকাউন্টটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
২৫ লক্ষ টাকা জমানোর সহজ হিসাব
পোস্ট অফিসের এই স্কিম থেকে ২৫ লক্ষ টাকার বড় তহবিল গঠন করতে হলে গ্রাহককে প্রতিদিন ৫০০ টাকা হিসেবে প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকা সঞ্চয় করতে হবে। এই টাকা টানা ৫ বছর জমা দিলে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ৯ লক্ষ টাকা, যেখানে ৬.৭ শতাংশ সুদে গ্রাহক অতিরিক্ত ১ লক্ষ ৭০ হাজার ৪৯২ টাকা পাবেন। অর্থাৎ ৫ বছর পর মোট টাকার পরিমাণ হবে ১০ লক্ষ ৭০ হাজার ৪৯২ টাকা। এই সঞ্চয়কে ২৫ লক্ষ টাকায় রূপান্তর করতে গ্রাহককে স্কিমের মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়িয়ে মোট ১০ বছর করতে হবে। টানা ১০ বছর এই প্রক্রিয়া বজায় রাখলে মোট বিনিয়োগ হবে ১৮ লক্ষ টাকা এবং এর বিপরীতে অর্জিত সুদের পরিমাণ দাঁড়াবে ৭ লক্ষ ৬২ হাজার ৮২২ টাকা। সব মিলিয়ে মেয়াদ শেষে গ্রাহকের হাতে আসবে ২৫ লক্ষ ৬২ হাজার ৮২২ টাকার একটি বিশাল অর্থ, যা মধ্যবিত্তের ভবিষ্যৎ আর্থিক চাহিদ পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।