সাদা শাড়ি ছেড়ে জিন্স! পদ খুইয়ে জল্পনা বাড়ালেন বিদ্রোহী সায়নী

গত কয়েক বছর ধরে সাদা শাড়ি, সাদা চটি আর কপালে বড় টিপেই অভ্যস্ত ছিলেন সায়নী ঘোষ। কিন্তু সম্প্রতি কলকাতা বিমানবন্দরে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে দেখা গেল তাঁকে। জিন্স, টি-শার্ট পরা এবং মাস্ক ও টুপিতে মুখ ঢাকা সায়নীর এই নয়া স্টাইল স্টেটমেন্ট ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। রবিবার দিল্লিতে ‘বিদ্রোহী’ ব্লকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি জল্পনার পারদকে আরও উসকে দিয়েছে। দলবদল বা এনডিএ-কে সমর্থন নিয়ে এখনই প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও, সঠিক সময়ে সবটা জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন এই সাংসদ-অভিনেত্রী।
রাজনৈতিক পালাবদল ও সায়নীর অপসারণ
বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসানের পর থেকেই রাজনীতির গ্ল্যামার দুনিয়ায় বড়সড় ভাঙন দেখা যাচ্ছে। একসময়ের তৃণমূলপন্থী তারকারা ক্রমশ দূরত্ব বাড়াচ্ছেন। এরই মধ্যে দলের অন্দরেও শুরু হয়েছে ব্যাপক রদবদল। রাজ্য যুব সভাপতির পদ থেকে আচমকাই সায়নী ঘোষকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল এবং দলের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তই তাঁকে বিদ্রোহী শিবিরের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যার বড় প্রভাব পড়তে পারে আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতিতে।
পাত্রের রূপ ধারণ ও নয়া সমীকরণ
অতীতে নিজের সাজগোজ নিয়ে সায়নী জানিয়েছিলেন, তিনি যখন যে পাত্রে ঢালেন, সেই পাত্রের রূপই ধারণ করেন। গ্রামের মানুষের সঙ্গে মিশতে সাদা শাড়ির প্রয়োজন ছিল বলে দাবি করেছিলেন তিনি। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর এই ভোলবদল যেন সেই পুরোনো মন্তব্যেরই বাস্তব প্রতিফলন। ইডির সমন বা ট্রোলিংয়ের মুখে দাঁড়িয়ে একসময় যিনি দলের প্রতি নিজের আনুগত্য ও লড়াইয়ের কথা বলেছিলেন, আজ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁর এই রূপবদল ও বিদ্রোহী অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।