ব্যারাকপুর পুরসভায় নজিরবিহীন ধস, তৃণমূল ছাড়লেন দীর্ঘদিনের পুরপ্রধান উত্তম!

ব্যারাকপুর পুরসভায় নজিরবিহীন ধস, তৃণমূল ছাড়লেন দীর্ঘদিনের পুরপ্রধান উত্তম!

বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের ঠিক এক মাস পরেই উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর মহকুমায় বড়সড় রাজনৈতিক পালাবদল। ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন উত্তম দাস। সোমবার ব্যারাকপুর প্রশাসনিক ভবনে মহকুমাশাসকের (এসডিও) কাছে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। শুধু পুরপ্রধানের পদ ছাড়ায় নয়, একইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেও দীর্ঘ কয়েক দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর এই পদক্ষেপের পরেই পুরসভার ২৪ জন পুর প্রতিনিধির মধ্যে উপ-পুরপ্রধান সুপ্রিয় ঘোষ-সহ ২০ জন ইস্তফা দিয়েছেন, যার ফলে কার্যত ভেঙে পড়ল ব্যারাকপুর পুরবোর্ড।

তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের অবসান

১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন উত্তম দাস। ২০১০ সালে তিনি প্রথম ব্যারাকপুরের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন এবং সব মিলিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পুরপ্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন। সম্প্রতি মহকুমার বিভিন্ন পুরসভায় একের পর এক জনপ্রতিনিধির পদত্যাগের যে হিড়িক শুরু হয়েছিল, উত্তমের এই সিদ্ধান্ত তারই একটি বড় বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের অন্দরে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণই এই গণ-ইস্তফার অন্যতম প্রধান কারণ। যদিও শাসকদলের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

প্রশাসনিক সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব

ইতিমধ্যেই পুরসভার চারটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছিলেন। এবার পুরপ্রধান, উপ-পুরপ্রধান, পুর পারিষদ এবং অন্যান্য সদস্য মিলিয়ে মোট কুড়ি জনের পদত্যাগের জেরে ব্যারাকপুর পুরসভার বর্তমান বোর্ডটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেল। এর ফলে আগামী দিনে এলাকার সাধারণ নাগরিক পরিষেবা এবং পুরসভার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্মে বড়সড় ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে এই রাজনৈতিক শূন্যস্থান পূরণ করে মহকুমাশাসকের নেতৃত্বে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো বা প্রশাসক নিয়োগ না করা হলে ব্যারাকপুরের উন্নয়নমূলক কাজ থমকে যেতে পারে। শাসকদলের অন্দরের এই ভাঙন স্থানীয় রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *