জাতীয় সঙ্গীত না গাইলে সরকারি সুবিধা কেন! নন্দীগ্রাম থেকে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী আদর্শকে অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের জনকল্যাণ শিবির থেকে তিনি স্পষ্টভাবে প্রশ্ন তোলেন, যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ বা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয় না, সেখানে যারা সন্তানদের পাঠান তারা কেন সরকারি সুবিধা পাবেন! মূলত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে কোনোভাবেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগতদের হাতে না পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া অবস্থান নিয়েছে বর্তমান সরকার। বাংলাদেশ থেকে আসা কেউ যাতে রাজ্যের করদাতাদের টাকায় সুবিধা ভোগ করতে না পারে, তার জন্যই সুবিধাভোগীদের তথ্য যাচাইয়ে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে।
দুর্নীতি দমন ও জনকল্যাণে জোর
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগে বিধবা ভাতার টাকা পুরুষদের নামেও বরাদ্দ হয়েছে এবং মুর্শিদাবাদের ডোমকলে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সংখ্যালঘু বৃত্তির টাকা লুঠ করা হয়েছে। এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি সমূলে উৎপাটন করতে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দিতেই নতুন নিয়ম চালু হয়েছে। ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৭৯ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে আগামী ১ জুলাই থেকে ১০০ দিনের কাজকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার বড় ঘোষণাও করেন তিনি, যার জন্য ৮,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার।
সীমান্ত সুরক্ষা ও সম্ভাব্য প্রভাব
অনুপ্রবেশ রোধ এবং রাজ্যের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সীমান্ত সমস্যা মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করছে প্রশাসন। এর পাশাপাশি রাজ্যে জনগণনা পরিচালনার কাজও শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই জোড়া নীতি—একদিকে জাতীয়তাবাদের কড়া বার্তা এবং অন্যদিকে দুর্নীতিমুক্ত দ্রুত পরিষেবা প্রদান—রাজ্যের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে চলেছে। এর ফলে একদিকে যেমন ভুয়ো উপভোক্তা চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে সরকারি তহবিলের বিপুল অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে, তেমনই প্রকৃত নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও রাজ্যের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।