কালো রঙে ঢাকল মহেঞ্জোদারোর বিখ্যাত ‘ডান্সিং গার্ল’, এনসিইআরটি-র বই নিয়ে তোলপাড়!

সিন্ধু সভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও ঐতিহাসিক নিদর্শন মহেঞ্জোদারোর ব্রোঞ্জের ‘ডান্সিং গার্ল’ বা নৃত্যরতা নারীমূর্তি। যুগ যুগ ধরে ইতিহাসের পাঠ্যবইয়ে এই মূর্তির ছবি দেখে অভ্যস্ত শিক্ষার্থীরা। তবে এবার এনসিইআরটি-র (NCERT) নবম শ্রেণির একটি পাঠ্যবইয়ে সেই অতিপরিচিত ছবিটিকে কালো রঙে ঢেকে দেওয়ার ঘটনা সামনে আসতেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রাচীন এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্মকে এভাবে আড়াল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিতর্কের সূত্রপাত ও ছবির রূপবদল
জানা গেছে, এনসিইআরটি-র ‘মধুরিমা’ নামের বইটিতে ‘হিস্ট্রি অফ আর্টস’ অধ্যায়ে মূল ব্রোঞ্জ মূর্তিটিকে একটি কালো স্তরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মূর্তিটির মূল ভাস্কর্য, শৈল্পিক সুষমা এবং শারীরিক গঠনের কোনো খুঁটিনাটিই আর দৃশ্যমান নয়। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এনসিইআরটি-র ষষ্ঠ শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকে এই মূর্তিটির ছবি আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একই শিক্ষাবোর্ডের দুই শ্রেণির বইয়ে দুই রকম ছবি রাখায় বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
নেপথ্যের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই পরিবর্তনের নেপথ্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে প্রশাসনিক স্তরের দৃষ্টিভঙ্গি। ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন পাঠ্যবই তৈরির কমিটির প্রধান তথা বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ মিশেল দানিনো জানিয়েছেন, উচ্চমহল থেকে তাঁদের বলা হয়েছিল যে শিক্ষার্থীদের জন্য এই অনাবৃত মূর্তিটি ‘অনুপযুক্ত’। তবে দানিনো এবং তাঁর বিশেষজ্ঞ দল এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত হননি। এমনকি বই তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকারাও এই ছবি নিয়ে কোনো উদ্বেগ বা আপত্তি প্রকাশ করেননি।
ঐতিহাসিক নিদর্শনকে নৈতিকতার মাপকাঠিতে বিচার করে এভাবে আড়াল করার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের সঠিক ইতিহাস চেতনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাচীন শিল্পকলার প্রকৃত রূপ ও ইতিহাসকে আংশিক বা বিকৃতভাবে উপস্থাপনের এই প্রয়াস আগামী দিনে শিক্ষাক্ষেত্রে মুক্তচিন্তা ও স্বাধীন শিল্প-মূল্যায়নের পথকে সংকুচিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।