১১ ঘণ্টা ম্যারাথন ইডি জেরা শেষে সিজিও-র বাইরে হুংকার অভিষেকের, গলা কেটে দিলেও আত্মসমর্পণ নয়!

১১ ঘণ্টা ম্যারাথন ইডি জেরা শেষে সিজিও-র বাইরে হুংকার অভিষেকের, গলা কেটে দিলেও আত্মসমর্পণ নয়!

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) টানা ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রাত ১০টার পর সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের ইডি দপ্তর থেকে বাইরে আসেন তিনি। তবে দীর্ঘ জেরার ক্লান্তি কাটিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েই তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁর সাফ হুংকার, “গলা কেটে দিলেও আমরা আত্মসমর্পণ করার লোক নই, লড়াই চলবে।”

সিজিও কমপ্লেক্সে ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা

সোমবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ কলকাতার বাড়ি থেকে বের হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের কিছুটা আগেই, অর্থাৎ সকাল ১০টা ৫৬ মিনিট নাগাদ তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছান। অতীতে এই মামলায় ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত গরমিলের যে অভিযোগ উঠেছিল, সেই সূত্রেই এদিন তাঁকে ইডি আধিকারিকরা দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এই মামলায় কোনও আইনি রক্ষাকবচ না থাকায় দীর্ঘ বেলা গড়িয়ে রাত পর্যন্ত চলে এই রুদ্ধদ্বার জেরা। অবশেষে রাত ১০টা নাগাদ তিনি বাইরে আসেন।

‘১০-১২ বার এজেন্সির মুখোমুখি হয়েছি, আবার ডাকলে আবার আসব’

ইডি দপ্তর থেকে বের হতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেঁকে ধরেন সাংবাদিকরা। তদন্তে সবসময় সহযোগিতা করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আজ সকাল ১১টার আগে এসেছি। ১১ ঘণ্টা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এই ঘটনায় আমাকে শেষবার ডাকা হয়েছিল ২০২৩ সালে, আমি তখনও এসেছিলাম। সব মিলিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১২ বার আমি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সামনে উপস্থিত হয়েছি এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করেছি। ওনারা আবার ডাকলে আমি আবার আসব।”

‘দল ভাঙানোর খেলা চলছে’, বিজেপিকে তীব্র নিশানা অভিষেকের

কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই অতি-সক্রিয়তার নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক চক্রান্ত ও প্রতিহিংসা রয়েছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ তোলেন, বিরোধীরা যাতে রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি না পায়, তার জন্য এক নোংরা ষড়যন্ত্র রচনা করা হয়েছে।

তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন:

  • রাজনৈতিক চক্রান্ত: বিরোধীদের কোণঠাসা করতেই এই ধরণের কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার করা হচ্ছে, তিনি নিজে রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার।
  • দল ভাঙানোর রাজনীতি: তৃণমূলকে দুর্বল করতে লাগাতার বিধায়ক ও সাংসদ ভাঙানোর নোংরা খেলা খেলছে বিজেপি। তবে এসব করে কোনও লাভ হবে না।

কাটেনি আইনি জট, মঙ্গলবার ফের সিআইডি তলব

ইডি-র এই ম্যারাথন জেরার ধকল কাটতে না কাটতেই আজ, মঙ্গলবার ফের অন্য এক মামলায় হাজিরা দিতে হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। উল্লেখ্য, এর আগে দুই দফায় কলকাতার ভবানী ভবনে বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় প্রায় ১৫-১৬ ঘণ্টা সিআইডি (CID) জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। এবার নির্বাচনী জনসভায় বিতর্কিত ‘ডিজে’ বাজানো সংক্রান্ত উস্কানিমূলক মন্তব্য করার মামলায় মঙ্গলবার ফের তাঁকে ভবানী ভবনে সিআইডি আধিকারিকদের সামনে হাজির হতে হবে। ফলে একের পর এক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য এজেন্সির জোড়া ফলায় তৃণমূল যুবরাজের আইনি জট যে ক্রমশ জটিল হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *