স্কুলের ক্লাসরুম ও অফিসের বাইরে ছড়ানো মহিলাদের অন্তর্বাস! পূর্বস্থলীতে তীব্র চাঞ্চল্য

পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর এক নামী স্কুলের ক্যাম্পাসের ভেতরে মহিলাদের অন্তর্বাস ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার এক ন্যক্কারজনক ঘটনা সামনে এসেছে। সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিন স্কুল খুলতেই এই কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য দেখে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। এই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পূর্বস্থলী থানার পুলিশ।
সোমবার সকালে স্কুলে ঢুকেই চক্ষু চড়কগাছ
পূর্বস্থলীর শ্যামবাটি রাধাকৃষ্ণ ভৌমিক বিদ্যাপীঠ স্কুলের এলাকায় যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে বহু পড়ুয়া এই নামী প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে আসে। সোমবার নির্ধারিত সময়ে স্কুল খোলার পর ক্যাম্পাসের ভেতরে পা রাখতেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। দেখা যায়:
- শ্রেণিকক্ষের বাইরে: স্কুলের একাধিক ক্লাসরুমের দরজার সামনে ও বারান্দায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মহিলাদের অন্তর্বাস।
- অফিস ঘরের সামনে: বাদ যায়নি স্কুলের প্রধান প্রশাসনিক অফিস ঘরও, তার সামনেও একই কুরুচিপূর্ণ জিনিস ফেলে রাখা হয়েছে।
পড়ুয়ারা স্কুলে আসার ঠিক মুখে মুখে এই ‘বিকৃত’ রুচির কাণ্ডটি নজরে আসায় চরম অপ্রস্তুত ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কাজ, নামল পুলিশ
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, কোনও সমাজবিরোধী বা বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তি শিক্ষার পবিত্র পরিবেশ নষ্ট করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই কাজ করেছে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পূর্বস্থলী থানার পুলিশ বাহিনী এবং তারা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে এবং জনমানসে সচেতনতার কড়া বার্তা দিতে স্কুলের পড়ুয়া ও শিক্ষকেরা মিলে সোমবারই স্থানীয় বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় একটি র্যালি বা মিছিল বের করেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক শুভঙ্কর দে বলেন, “রবিবার স্কুল ছুটি ছিল। সেই সুযোগ নিয়ে রাতের অন্ধকারে এসে এই জিনিসটি কেউ বা কারা করেছে। আমরা স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকা সকলে মিলে স্থানীয় এলাকার ২০০ মিটারের মধ্যে একটি সচেতনতামূলক প্রচার করেছি। পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। বিষয়টি খুবই দৃষ্টিকটু এবং কুরুচিপূর্ণ।”