নাটকীয় ও নজিরবিহীন ঘটনা! গেটের বাইরে উত্তেজিত জনতা, ভেতরে কান ধরে হাউহাউ করে কাঁদলেন তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান!

হাওড়ার পাঁচলা ব্লকে এক চরম নাটকীয় ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকলেন জুজারসা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা। পঞ্চায়েত অফিসের গেটের বাইরে যখন ক্ষোভে ফুঁসছে উত্তেজিত জনতা, ঠিক তখনই অফিসের ভেতরে তালাবন্দি অবস্থায় হাঁটু মুড়ে বসে, কান ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা গেল খোদ তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানকে। জনগণের রোষের মুখে পড়ে প্রধানের এই কাতর আবেদনের ঘটনাটি এখন গোটা জেলায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
জমি দখল ও দুর্নীতির অভিযোগে গণরোষ
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জুজারসা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান মন্দিরা গায়েনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক সাধারণ মানুষের জমি দখল সহ একাধিক মারাত্মক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই সমস্ত আর্থিক তছরুপের কারণে পুলিশ এর আগে তাঁকে গ্রেপ্তারও করেছিল, তবে সম্প্রতি তিনি জামিনে ছাড়া পান। জামিন পেয়ে সোমবার তিনি যখন পঞ্চায়েত অফিসে পৌঁছান, তখন তাঁর ওপর দীর্ঘদিনের জমে থাকা গণক্ষোভ আছড়ে পড়ে। এলাকার বাসিন্দারা দলবদ্ধ হয়ে পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও করেন এবং কর্মী সমেত প্রধানকে ভেতরে আটকে রেখে মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন।
কান ধরে ক্ষমা চাইলেন প্রধান, উদ্ধার করল পুলিশ
অফিসের বাইরে যখন আঙুল উঁচিয়ে তুমুল বিক্ষোভ ও চেঁচামেচি চলছিল, তখন পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চরম আতঙ্কে হাউহাউ করে কাঁদতে শুরু করেন তৃণমূল প্রধান মন্দিরা গায়েন। বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ শান্ত করতে তিনি মাটিতে বসে কান ধরে নাগাড়ে ক্ষমা চাইতে থাকেন। তবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুন এতটাই তীব্র ছিল যে, প্রধানের এই কান্নাতেও তা জল পড়েনি। উলটে বিক্ষোভের ঝাঁঝ আরও বাড়তে থাকলে খবর দেওয়া হয় পাঁচলা থানায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পঞ্চায়েত প্রধানকে উদ্ধার করে।
‘ফাইল লোপাট করতে এসেছিলেন’, তোপ বিজেপির
এই ঘটনা প্রসঙ্গে পাঁচলার স্থানীয় বিজেপি নেতা রঞ্জন পাল তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “মন্দিরা গায়েন সাধারণ মানুষের ওপর দিনের পর দিন যে অসহনীয় অত্যাচার চালিয়েছেন, এটি তারই স্বাভাবিক পরিণতি। ওঁর বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। এদিন তিনি পঞ্চায়েত অফিসে এসেছিলেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুরির ফাইল লোপাট করতে। সাধারণ মানুষ তা ধরে ফেলায় এই বিক্ষোভ অত্যন্ত স্বাভাবিক।”
রাজ্য জুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক শাসক দলের নেতার জনরোষের মুখে পড়ার আবহে জুজারসার এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।