কেঁচো খুঁড়তে কেউটে! আসানসোলে নাবালকদের দিয়ে সাইবার প্রতারণা ও মোবাইল পাচারের ‘মিস্ত্রি গ্যাং’ ফাঁস

আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে মিস্ত্রি প্রশিক্ষণের নামে নাবালকদের জামতাড়ায় নিয়ে গিয়ে সাইবার প্রতারণা ও পকেটমারির প্রশিক্ষণ দেওয়ার এক বিস্ফোরক চক্রের হদিশ পেয়েছে পুলিশ। ‘মিস্ত্রি গ্যাং’ নামের এই আন্তঃদেশীয় মোবাইল পাচার ও সাইবার জালিয়াতি চক্রের ইতিমধ্যেই ৭ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট।
৮-১৪ বছরের নাবালকদের টার্গেট, জামতাড়ায় ‘মিস্ত্রি’ প্রশিক্ষণ
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, এই চক্রের কাজ করার পদ্ধতি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। মূলত ৮ থেকে 14 বছর বয়সি দরিদ্র পরিবারের নাবালকদের টার্গেট করে এই গ্যাং।
- টোপ ও পাচার: প্রথমে মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ভালো খাওয়া-দাওয়ার লোভ দেখিয়ে এই কিশোরদের ঝাড়খণ্ডের জামতাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই চক্রে নাবালকদের সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিস্ত্রি’।
- কাজের প্রমোশন ও রোজগার: জামতাড়ায় নিয়ে গিয়ে প্রথমে তাদের পকেটমারি ও মোবাইল চুরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। হাত পাকা হলে তাদের মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে মোবাইলের বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে সাইবার প্রতারণার ফন্দি শিখে গেলেই এদের মাসিক রোজগার একলাফে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে যায়।
- কার্ড সোয়াইপ যন্ত্রের ব্যবহার: এই কিশোর পকেটমাররা এতটাই দক্ষ হয়ে ওঠে যে, চুরি করা ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড থেকে টাকা ওড়াতে এদের হাতে চক্রের মাথারা সোয়াইপ মেশিনও তুলে দেয়।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সভাতেও হাতসাফাই, কুখ্যাত তিন এলাকা
জামতাড়ার ধাঁচেই আসানসোলের কয়েকটি এলাকা এখন সাইবার জালিয়াতি ও মোবাইল চুরির আখড়া হয়ে উঠেছে। কুলটি থানার চিনাকুড়ি, নিয়ামতপুরের মুচিপাড়া এবং জামুড়িয়ার নিঘার নুনিয়াবস্তি এই চক্রের মূল কেন্দ্র। অভিযোগ, চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক জনসভাতেও ভিড়ের সুযোগ নিয়ে এই চোরের দল চোখের পলকে কয়েকশো মোবাইল গায়েব করে দিয়েছিল।
কালিয়াচক হয়ে বাংলাদেশে মোবাইল পাচার
সাইবার প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইলগুলি নিজেদের কাছে রাখা এই চক্রের সদস্যদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ, মোবাইলের সূত্র ধরে পুলিশ সহজেই তাদের ডেরায় পৌঁছে যেতে পারে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সেই কারণে ট্র্যাক হওয়া এড়াতে চুরি করা ও অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইলগুলি সরাসরি মালদহের কালিয়াচকে পাঠানো হয়। সেখান থেকে নদী সীমান্ত পার করে মোবাইলগুলি বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়া হয়। এতে পুরো চক্রটিই তদন্তকারীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। এই ‘মিস্ত্রি’ প্রশিক্ষণের জাল কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে ধৃতদের জেরা করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।