বৃদ্ধকে ভারতে পাঠানোর চেষ্টা বিজিবির, নো ম্যানস ল্যান্ডে রুখে দিয়ে কড়া জবাব বিএসএফের!

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের একটি বড়সড় চেষ্টাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি থানার জামালপুর সীমান্তে। এক বাংলাদেশি বৃদ্ধকে জোরপূর্বক ভারতে পাঠানোর (পুশ-ইন) চেষ্টা করে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (BGB)। কিন্তু ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (BSF) জওয়ানদের কড়া নজরদারিতে নো ম্যানস ল্যান্ডেই আটকে দেওয়া হয় সেই চেষ্টা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীদের মধ্যে রাতভর তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়।
নো ম্যানস ল্যান্ডে রাতভর চলল তীব্র উত্তেজনা
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে জামালপুর সীমান্তে আচমকাই এক বৃদ্ধকে স্থানীয় কিছু বাসিন্দাকে সঙ্গে নিয়ে কাঁটাতারের ওপারে অর্থাৎ ভারতের দিকে পাঠানোর চেষ্টা শুরু করে বিজিবি। বিজিবির তরফে দাবি করা হয়, ওই বৃদ্ধ আসলে ভারতীয় নাগরিক। কিন্তু বিএসএফ জওয়ানরা তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবির বিরোধিতা করেন এবং ওই বৃদ্ধকে ভারতে প্রবেশ করতে বাধা দেন। বিএসএফের স্পষ্ট দাবি, ওই ব্যক্তি বাংলাদেশেরই বাসিন্দা।
দুই বাহিনীর এই অনড় অবস্থানের জেরে দীর্ঘক্ষণ ওই বৃদ্ধকে দুই দেশের মধ্যবর্তী ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতভর দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা চলে, যার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
সকাল হতেই উধাও রহস্যময় সেই বৃদ্ধ
বিএসএফের ১২৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা সীমান্তে কড়া পাহারা বসিয়ে দেওয়ায় বিজিবির অনুপ্রবেশের ছক সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। জামালপুর এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য নির্মল পাহান জানিয়েছেন, রবিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই উত্তেজনার জেরে সীমান্তে দুই দেশের সাধারণ মানুষের ভিড় জমে গিয়েছিল। তবে সোমবার সকালে দেখা যায়, ওই বৃদ্ধ নো ম্যানস ল্যান্ড থেকে উধাও হয়ে গিয়েছেন। বিজিবির তরফেই তাঁকে রাতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বর্তমানে ওই সীমান্তের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক রয়েছে।
রাজ্যে অনুপ্রবেশ রুখতে জারি কড়া প্রশাসনিক অবস্থান
বিএসএফের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে সাম্প্রতিক পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ঢোকার চেষ্টাকারীদের আটকে প্রথমে নির্দিষ্ট ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ রাখা হচ্ছে। এরপর দফায় দফায় তাঁদের প্রয়োজনীয় আইনি নথি ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ যাচাই করে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে পুশআপ বা ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে একাধিক অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। জামালপুর সীমান্তের এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ এবং বিএসএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছেন।