ভিড়ের সুযোগে ককরোচ পার্টির প্রধান অভিজিৎকে সপাটে চড়, পিছু না হটার বার্তা অভিজিতের

জয়পুরে নিট (NEET) কেলেঙ্কারি ও দেশের বেকারত্ব ইস্যুতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে চরম অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়লেন দেশজুড়ে সাড়া ফেলা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সোমবার দুপুরে শহিদ স্মারকের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সমর্থকদের কাঁধে চড়ে সভামঞ্চের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই ভিড়ের সুযোগ নিয়ে একদল দুষ্কৃতী তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে সপাটে চড় মারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে গোটা সমাবেশস্থল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ইতিমধ্যেই এই বিশৃঙ্খলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জনকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
সমর্থকদের কাঁধে চড়ার মুহূর্তেই অতর্কিত হামলা
চলতি নিট পরীক্ষা দুর্নীতি এবং দেশে ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের মতো জ্বলন্ত ইস্যুগুলি নিয়ে সোমবার জয়পুরের শহিদ স্মারকে এক বিশাল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। দুপুর ৩টে নাগাদ সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে যখন অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছান, তখন শয়ে শয়ে উৎসাহী সমর্থক ও যুবসমাজ তাঁকে স্বাগত জানান এবং আনন্দে নিজেদের কাঁধে তুলে নেন।
সেই অবস্থাতেই স্লোগান দিতে দিতে ভিড়ের মধ্য দিয়ে মঞ্চের দিকে এগোচ্ছিলেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঠিক তখনই আচমকা কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক সামনে এগিয়ে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা অভিজিতের গলার স্কার্ফ ধরে টানাটানি শুরু করে এবং তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি চড় মারে। এই আকস্মিক আক্রমণের জেরে স্তম্ভিত হয়ে যান উপস্থিত সকলে এবং সমাবেশ চত্বরে চরম হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।
পাল্টা মারধর ও দুষ্কৃতীদের পুলিশে সোপর্দ
অভিজিৎ দীপকের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলা হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ককরোচ পার্টির সমর্থকেরা। তাঁরা তৎক্ষণাৎ নিজেদের নেতাকে সুরক্ষিত করতে চারিদিক থেকে ঘিরে ধরেন এবং পালিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেন দুই হামলাকারীকে।
ঘটনাস্থলে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির প্রধান দিকগুলি হলো:
- ধস্তাধস্তি ও গণপিটুনি: উত্তেজিত সমর্থকেরা পুলিশে দেওয়ার আগে ওই দুষ্কৃতীদের ধরে পাল্টা মারধর করে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে হামলাকারীদের তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
- পুলিশের তৎপরতা: পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সেখানে মোতায়েন বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই দুই যুবককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
- ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি: এই অনভিপ্রেত ঘটনার ঠিক আগেই আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল একাধিক প্ল্যাকার্ড। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা।
‘শারীরিক আক্রমণ আসলে ভয়ের লক্ষণ’, পিছু না হটার বার্তা অভিজিতের
এই কাপুরুষোচিত হামলার শিকার হওয়ার পরও নিজের মনোবল হারাননি ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে। বরং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে নিন্দুকদের কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
অভিজিৎ বলেন, “শারীরিক আক্রমণ আসলে এক ধরনের গভীর ভয়ের প্রকাশ। আমাদের শান্তিপূর্ণ কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই ভয় থেকে এই নোংরা হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই ধরনের সস্তা আক্রমণ করে আমাদের দমানো যাবে না, আমরা আমাদের দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ লড়াই চালিয়ে যাব।” একই সঙ্গে এই ঘটনার পর আগামী ১৬ জুন নাগপুরের সংবিধান চত্বরে আরও এক বিশাল প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়ে নিজের অনড় অবস্থানের জানান দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত ১৬ মে সমাজমাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। খাতায়-কলমে কোনও রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনে এর অস্তিত্ব না থাকলেও, তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ ও মিমের মাধ্যমে ভারতের যুবসমাজের একাংশের মধ্যে এই দলটির জনপ্রিয়তা বর্তমান সময়ে আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে।