সাংসদ পদ হারাবেন কল্যাণ? স্পিকার ওম বিড়লাকে বহিষ্কারের চিঠি কাকলির!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা নজিরবিহীন ভাঙন ও অন্তর্দ্বন্দ্ব এবার পৌঁছে গেল দেশের সংসদ ভবনে। শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখলেন বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। নারীবিদ্বেষী আচরণ এবং লাগাতার মৌখিক অপমানের অভিযোগ তুলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভা থেকে সরাসরি বহিষ্কার করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নারীবিদ্বেষ ও ধারাবাহিক হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে লেখা চিঠিতে বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার অত্যন্ত কড়া ভাষায় শ্রীরামপুরের সাংসদের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
চিঠিতে উত্থাপিত মূল অভিযোগগুলি হলো:
- ধারাবাহিক হয়রানি: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আপত্তিকর আচরণ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি মহিলা সাংসদদের প্রতি তাঁর ধারাবাহিক হেনস্থা ও ভয় প্রদর্শনের একটি ইচ্ছাকৃত প্রবণতা।
- সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ: শ্রীরামপুরের সাংসদের অনভিপ্রেত মন্তব্য ও অসদাচরণ লোকসভার গরিমা, শৃঙ্খলা এবং সুস্থ সংসদীয় রীতিনীতিকে পুরোপুরি ক্ষুণ্ণ করেছে।
- রুল ৩১৪ (১) প্রয়োগের দাবি: লোকসভার নিয়মাবলীর ‘রুল ৩১৪ (১)’-এর বিশেষ ধারা উল্লেখ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার এবং তাঁকে সংসদ থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছেন কাকলি।
দলবদল ও অন্তর্দ্বন্দ্বের আবহেই এই সংঘাত
বিধানসভা নির্বাচনে দলের চরম বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদ ও বিধায়ক প্রকাশ্যেই শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। বিক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী সাংসদদের এই অংশের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে সামনে এসেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। অন্যদিকে, এই কঠিন সময়েও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষুব্ধ নেতাদের প্রতিনিয়ত চাঁছাছোলা ভাষায় নিশানা করে চলেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই রাজনৈতিক সংঘাতেরই এক চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটল স্পিকারের কাছে পাঠানো এই চিঠির মাধ্যমে।
উল্লেখ্য, মাত্র দু’দিন আগেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ যে পাঁচজন শীর্ষ নেতাকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন, সেই তালিকায় অন্যতম নাম ছিল এই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এবার পুত্র আইনি নোটিস পাঠানোর পরই খোদ শ্রীরামপুরের সাংসদের পদ খারিজের দাবিতে সরব হলেন মা কাকলি।
লোকসভায় আরও বড় আইনি সংকটে ঘাসফুল শিবির
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের এই নজিরবিহীন টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যদি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা কোনও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন বা তদন্ত কমিটি গঠন করেন, তবে সংসদের অন্দরে ঘাসফুল শিবিরের সংসদীয় দল আরও বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়বে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই বিস্ফোরক চিঠির প্রেক্ষিতে স্পিকার ওম বিড়লা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।