বাংলাদেশ থেকে আস্ত দলটাই চলে এসেছে! ২২ সাংসদের দলবদল নিয়ে শাহকে তীব্র কটাক্ষ অধীরের

বাংলাদেশ থেকে আস্ত দলটাই চলে এসেছে! ২২ সাংসদের দলবদল নিয়ে শাহকে তীব্র কটাক্ষ অধীরের

তৃণমূল কংগ্রেসের ২২ জন লোকসভা সাংসদের ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগদানের জল্পনা নিয়ে এবার দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপিকে বেনজির আক্রমণ শানালেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। ত্রিপুরাভিত্তিক এই আঞ্চলিক দলটিকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি এটিকে ‘চিটিজেন পার্টি’ (চিটার থেকে চিটিজেন) বলে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, শুধু মানুষ নয়, এবার খোদ বাংলাদেশ থেকে আস্ত রাজনৈতিক দলই ভারতে চলে এসেছে।

‘বাংলাদেশি’ জুজু নিয়ে অমিত শাহকে তীব্র খোঁচা

মুর্শিদাবাদে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে তীব্র ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিজেপি বরাবরই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা বলে এসেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অধীর চৌধুরীর প্রধান বক্তব্যগুলি নিচে দেওয়া হলো:

  • আস্ত দলই অনুপ্রবেশকারী: অধীর চৌধুরী বলেন, “এতদিন অমিত শাহ ‘বাংলাদেশি বাংলাদেশি’ বলে চিৎকার করতেন এবং অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোর কথা বলতেন। এখন দেখা যাচ্ছে শুধু বাংলাদেশ থেকে সাধারণ মানুষই আসছে না, আস্ত রাজনৈতিক দলই সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে এসেছে।”
  • দিল্লিতে পৌঁছে গেছে দল: বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতার দাবি, বাংলাদেশেও এই ‘ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি’র অস্তিত্ব রয়েছে এবং সেখানে শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের সময় এই দলের উৎপত্তি। আজ সেই দলই ভারতের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশকারী বা ‘ঘুষপেটিয়া’ হয়ে দিল্লিতে পৌঁছে গেছে। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এবার দ্রুত সতর্ক হওয়া উচিত।

সরাসরি বিজেপিতে না গিয়ে ‘বি-টিম’ হওয়ার কৌশল

তৃণমূলের ২২ জন লোকসভা সাংসদের এই গণ-দলবদলকে বিজেপির একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল বা কৌশল বলে মনে করছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর মতে, সরাসরি গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলে জনমানসে দলবদলু তকমা পাওয়ার এবং ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার ভয় রয়েছে সাংসদদের।

এই কৌশল বিশ্লেষণ করে অধীরবাবু জানান:

  • জাত বাঁচানোর লড়াই: সরাসরি বিজেপিতে ঢুকলে সমাজ ও ভোটারের কাছে জবাবদিহি করা কঠিন হতো এবং ‘জাত’ থাকত না।
  • বিজেপির সহোদর ভাই: সেই কারণেই নাম পরিবর্তন করে একটি অপরিচিত আঞ্চলিক দলের আড়ালে বিজেপির সহোদর ভাই বা ‘বি-টিম’ হয়ে থাকার এই সুচতুর কৌশল নেওয়া হয়েছে।

লোকসভা ও রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে তৈরি হওয়া এই নতুন সমীকরণ নিয়ে অধীর চৌধুরীর এই ‘চিটিজেন’ ও ‘ঘুষপেটিয়া’ মন্তব্য ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে এই চরম কটাক্ষের জবাবে বিজেপি বা বিক্ষুব্ধ সাংসদদের শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *