দিদির বাড়ির সামনে কুণালকে লক্ষ্য করে ডিম! চন্দনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের

দিদির বাড়ির সামনে কুণালকে লক্ষ্য করে ডিম! চন্দনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের

কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন থেকে বেরোনোর মুহূর্তেই নজিরবিহীন হামলার মুখে পড়লেন বেলেঘাটার বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। প্রকাশ্য রাস্তায় অত্যন্ত কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হলো কাঁচা ডিম। এই অনভিপ্রেত ঘটনার প্রতিবাদে এবার কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন তৃণমূল নেতা। চন্দন নামে ওই অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ানোর পাশাপাশি হাই-প্রোফাইল এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন খাড়া হয়েছে।

কুণালের বিস্ফোরক দাবি ও সিআইডি রেডের রহস্যময় যোগসূত্র

এই আকস্মিক হামলার পরেই সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ ও বিস্ফোরক পোস্ট করেন কুণাল ঘোষ। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, ডিমের মারাত্মক আঘাত থেকে তাঁর বাঁ চোখটি অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে। একই সাথে ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে চরম ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে কুণাল ঘোষের তোলা মূল অভিযোগগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:

  • সিআইডি রেডের সাক্ষী: কুণালবাবু দাবি করেছেন, তিনি জানতে পেরেছেন মমতাদির বাড়িতে যখন সিআইডি (CID) তল্লাশি বা রেড করতে গিয়েছিল, তখন এই অভিযুক্ত যুবক চন্দনই নাকি পুলিশের উইটনেস বা সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিল। এমনকি পুলিশের সিজার লিস্টেও নাকি ওই যুবকের সই রয়েছে।
  • নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন: জেড ক্যাটাগরির (Z Category) নিরাপত্তা বলয়ে মোড়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, ওই বাড়িকে কেন্দ্র করে বড় কোনও হামলার ছক কষে আগে থেকেই রেকি করানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
  • দিদির নিরাপত্তা বিঘ্নিত: কুণাল ঘোষের সাফ কথা, “ওই ছেলেটাই সাক্ষী হিসেবে ভেতরে ঢুকেছিল কি না, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হোক। যদি সেটাই সত্যি হয়, তবে মমতাদি নিজে নিরাপদ নন। তাঁর বাড়ি ঘিরে কোনও গভীর ও খারাপ পরিকল্পনা চলছে।” একই সাথে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এই ধরণের ছ্যাঁচড়ামি করে তাঁকে নিজের অবস্থান থেকে নড়ানো যাবে না।

ঠিক কী ঘটেছিল কালীঘাটের হাই-প্রোফাইল চত্বরে?

সোমবার কালীঘাটের হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তা জোনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে কুণাল ঘোষ বেরোতেই নাটকের সূত্রপাত হয়। আচমকাই কালো জামা পরা চন্দন নামের এক যুবক কুণালবাবুর অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসে এবং তাঁর মাথা লক্ষ্য করে সজোরে ডিম ছুঁড়ে মারে।

ঘটনার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া:

  • অভিযুক্তের সাফাই: সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অভিযুক্ত চন্দন অত্যন্ত স্বাভাবিক গলায় জানান যে তিনি ওই এলাকারই বাসিন্দা। কুণাল ঘোষ অতীতে যা যা ভুল কাজ করেছেন, তারই উপযুক্ত জবাব দিতে তিনি এই ডিম ছুঁড়েছেন। ওঁর কীর্তি কারও অজানা নয়।
  • পরিকল্পিত গুন্ডামির তোপ: হামলার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে কুণাল ঘোষ জানান, একে কোনওভাবেই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ‘জনরোষ’ বলে চালানো যাবে না। এটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি অপরাধ। কুণালবাবুর কথায়, “এটা কোনও জনরোষ নয়, এটা পুরোপুরি গুন্ডামি এবং মস্তানি।”

বাংলায় ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে ‘এগ থেরাপি’র তালিকা

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে হেভিওয়েট তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া বা ‘এগ থেরাপি’ দেওয়ার এক নতুন সংস্কৃতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার খতিয়ান:

  • সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ডিম হামলা চালানো হয়।
  • বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তকেও একই রকম গণবিক্ষোভ ও ডিমের বৃষ্টির মুখে পড়তে হয়েছিল।
  • এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন দলের অন্যতম প্রধান মুখ কুণাল ঘোষ।

পর পর এই ধরণের ঘটনা রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশি নজরদারির রূপটিকেই বারবার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *