সব সরকারি কর্মচারীর বাড়িতে বাধ্যতামূলক স্মার্ট মিটার! তথ্য চেয়ে নবান্নের বড় পদক্ষেপ

সব সরকারি কর্মচারীর বাড়িতে বাধ্যতামূলক স্মার্ট মিটার! তথ্য চেয়ে নবান্নের বড় পদক্ষেপ

পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি কর্মচারী, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, সরকার অনুমোদিত ও নিয়ন্ত্রণাধীন পর্ষদের কর্মীদের আবাসনে এবার বাধ্যতামূলকভাবে বসতে চলেছে বিদ্যুৎ দফতরের স্মার্ট ইলেকট্রিক মিটার। এই মেগা পরিকল্পনা দ্রুত ও সফলভাবে বাস্তবায়িত করতে সমস্ত স্তরের সরকারি কর্মীদের একটি সুসংহত তথ্যভাণ্ডার বা ডেটাবেস তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করল নবান্ন। এই লক্ষ্যে রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরের প্রধান সচিবের পক্ষ থেকে অর্থ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকে একটি অত্যন্ত জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

৯টি তথ্যের তালিকা চেয়ে অর্থ দফতরে চিঠি

বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১০ জুন রাজ্যের মুখ্যসচিবের দেওয়া এক নির্দেশিকার সূত্র ধরেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কর্মীদের বাসভবনে কোনওরকম ভুলভ্রান্তি ছাড়া স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ সম্পন্ন করতে অর্থ দফতরের কাছে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে বিশদ তথ্য চাওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকায় যে ৯টি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কর্মচারীদের তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে, সেগুলি হলো:

  • কর্মচারীর এইচআরএমএস (HRMS) আইডি এবং নাম
  • স্থায়ী ও বর্তমান বাসস্থানের ঠিকানা
  • অফিসের নাম, হেড অফ অফিস কোড ও অফিসের ঠিকানা
  • সংশ্লিষ্ট কর্মী বাড়িভাড়া ভাতা বা এইচআরএ (HRA) পান কি না

বিদ্যুৎসচিব তাঁর চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেবল মূল সরকারি দফতরই নয়, রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা সমস্ত স্বশাসিত সংস্থা, নিগম এবং পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং বা পিএসইউ-গুলির (PSU) ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এই সমস্ত অনুসারী সংস্থাগুলির একটি পূর্ণাঙ্গ ও পৃথক তালিকা তৈরি করার জন্য অর্থ দফতরের সক্রিয় সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা যায়।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য ও কর্মী সংগঠনের তীব্র প্রতিবাদ

প্রশাসনের শীর্ষ মহলের মতে, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা এবং বিদ্যুৎ বণ্টনের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা আনতেই রাজ্য সরকার এই বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তথ্যভাণ্ডার হাতে আসামাত্রই রাজ্য জুড়ে স্মার্ট মিটার বসানোর মূল কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ইতিমধ্যেই এই চিঠির প্রতিলিপি রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার হিউম্যান রিসোর্স ও ডিস্ট্রিবিউশন বিভাগের ডিরেক্টরদের পাশাপাশি বিদ্যুৎ দফতরের প্রধান সচিবের আপ্তসহায়ককেও অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সরকারি কর্মীদের অন্দরে ক্ষোভের আগুন জ্বলতে শুরু করেছে। এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, “সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বাড়িতে ইলেকট্রিক স্মার্ট মিটার বসানোর দ্বিতীয় ধাপ এগুলো। সব মহল থেকে তীব্র প্রতিবাদ হওয়া সত্ত্বেও সরকার একপ্রকার বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমরা এই জোরপূর্বক মিটার বসানো বন্ধ করাবই।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *