বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি, মার্কিন-ইরান ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

দীর্ঘ ১০০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি এখনও খাতায়-কলমে স্বাক্ষরিত না হলেও আগামী ১৯ জুন, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এটি সম্পন্ন হতে চলেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া এই সমঝোতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তির ফলে কেবল যুদ্ধ পরিস্থিতিরই অবসান ঘটবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথে যাতায়াতও আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংঘাতের কারণ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে ধাক্কা
গত কয়েক মাস ধরে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন-ইরান সংঘাত চরম রূপ ধারণ করেছিল। এই যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা ভারতের মতো আমদানিকারক দেশসহ গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেয়। এই সংঘাতের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতেই মূলত এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়।
চুক্তির রূপরেখা ও সম্ভাব্য বৈশ্বিক প্রভাব
সূত্র মারফত জানা গেছে, দুই দেশ মূলত একটি ১৪ দফার খসড়া কাঠামোয় সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করা হবে। একই সাথে হরমুজ প্রণালী পুনরায় সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনার পথ প্রশস্ত করা, তেহরানকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি দেওয়া এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে অবশিষ্ট সমস্যা মেটানোর একটি রূপরেখাও তৈরি করা হয়েছে।
এই চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দূর হবে। ভারত বরাবরই সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে সওয়াল করে এসেছে। দিল্লির মতে, এই শান্তি চুক্তি কেবল পশ্চিম এশিয়ার জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি ভবিষ্যতে অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে।