৫৪টি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে শুরু হলো জনকল্যাণ শিবির, জেনে নিন সময়সূচি ও বিস্তারিত তথ্য

১৫ জুন সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বহুপ্রতীক্ষিত ‘জনকল্যাণ শিবির’। কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সুবিধা এক ছাতার তলায় পৌঁছে দিতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই এই শিবিরগুলোকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও ভিড় লক্ষ করা গেছে। মিউনিসিপ্যালিটি, কর্পোরেশন এবং গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে আয়োজিত এই শিবির আগামী ১৭ জুন বুধবার পর্যন্ত চলবে।
পৌরসভা ও গ্রামীণ স্তরে শিবিরের বিন্যাস
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের একটি শিবির থেকে জানিয়েছেন, সমগ্র রাজ্যে বর্তমানে ১,১০০-এরও বেশি স্থানে এই জনকল্যাণ শিবির পরিচালনা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এর ভৌগোলিক বণ্টন করা হয়েছে। কর্পোরেশনের প্রতিটি বোরো অফিসের অধীনে একটি করে এবং পুরসভা এলাকায় প্রতি ১০টি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে শিবির বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রামীণ এলাকায় প্রতি ৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্য একটি এবং যেসব ব্লকে ৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে, সেখানে ২টি শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই শিবিরের কার্যক্রম সচল থাকছে।
এক ছাতার তলায় ৫৪টি সরকারি স্কিম
এই জনকল্যাণ শিবিরের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা নিশ্চিত করা। শিবিরগুলো থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মোট ৫৪টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্কিমে আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এখানে এসে নাগরিকদের প্রথমে নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র দিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে হচ্ছে। শিবিরে অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান যোজনা, পিএম কিষান সম্মান নিধি, কৃষাণ ক্রেডিট কার্ড এবং অটল পেনশন যোজনার মতো জনমুখী প্রকল্পগুলোর জন্য পৃথক কাউন্টার রাখা হয়েছে। এছাড়া পড়ুয়াদের স্কলারশিপ, ব্যাঙ্কের জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্ট খোলা, উজ্জ্বলা যোজনা এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা বীমার আবেদনও সরাসরি গ্রহণ করা হচ্ছে।
শিবিরের সম্ভাব্য প্রভাব
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লক ও ওয়ার্ড স্তরে এই ধরণের নিবিড় শিবির আয়োজনের ফলে সাধারণ মানুষকে আর সরকারি দফতরে দফতরে ঘুরে হয়রানির শিকার হতে হবে না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক, মহিলা এবং পড়ুয়ারা অত্যন্ত সহজে ও দ্রুততার সাথে সরাসরি সরকারি অনুদান ও সহায়তার আওতায় আসতে পারবেন। মাত্র তিন দিনের এই সংক্ষিপ্ত মেয়াদে বিপুল সংখ্যক মানুষকে পরিষেবা প্রদান করা নিশ্চিতভাবেই গ্রামীণ ও নগর অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।