এমবিএ ও কম্পিউটার সায়েন্সের যুগ শেষ! ভবিষ্যৎ কেরিয়ার নিয়ে বড় বার্তা প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার

এমবিএ ও কম্পিউটার সায়েন্সের যুগ শেষ! ভবিষ্যৎ কেরিয়ার নিয়ে বড় বার্তা প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার

উচ্চশিক্ষার প্রথাগত ডিগ্রি থাকলেই কি নিশ্চিত চাকরির দেখা মিলবে? দেশের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন মনে করেন, সেই দিন এবার ফুরিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনীতিতে শুধুমাত্র এমবিএ বা কম্পিউটার সায়েন্সের মতো চিরাচরিত ডিগ্রি আর টেকসই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখনও স্নাতক হওয়ার পর স্নাতকোত্তর বা ইউপিএসসি-র মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার দিকে একমুখী হয়ে ঝুঁকছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক কাঠামো ও প্রযুক্তির যুগান্তকারী পরিবর্তনের ফলে এই ধরনের সাধারণ যোগ্যতার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ পেশা গড়ার সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।

প্রযুক্তির যুগে কদর বাড়ছে কারিগরি দক্ষতার

বিশ্বায়নের প্রভাবে একটা সময় সফটওয়্যার, কম্পিউটার সায়েন্স বা এমবিএ ডিগ্রির ব্যাপক কদর থাকলেও, এখন সেই ধারায় বদল এসেছে। প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার মতে, ভারত দীর্ঘদিন ধরে ওয়েল্ডিং, প্লাম্বিং বা কাঠমিস্ত্রির মতো বৃত্তিমূলক কাজগুলিকে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি, যা সুইজারল্যান্ড, জার্মানি বা জাপানের মতো উন্নত দেশে দেখা যায়। আগামী দিনে সফট স্কিল এবং মানুষের চিন্তাশক্তি ও সরাসরি উপস্থিতি নির্ভর পেশাগুলির চাহিদা সবচেয়ে বেশি বাড়বে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহজে মানুষের সহমর্মিতা বা সংবেদনশীলতাকে নকল করতে পারবে না। ফলে কাউন্সেলিং, কেয়ারগিভিং, হসপিটালিটি এবং রন্ধনশিল্পের মতো পেশাগুলিতে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে সুস্থ শরীরই মূলধন

দেশ সমৃদ্ধ হওয়ার আগেই নাগরিকদের অসুস্থ হয়ে পড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগেশ্বরন। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার অভ্যাস এবং কায়িক শ্রমের অভাবের ফলে প্রায় সব আয়ের মানুষের মধ্যেই স্থূলতা বা ওবেসিটি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোনো দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল বিনিয়োগ বা পরিকাঠামোর উপর নির্ভর করে না। সুস্থ, কর্মক্ষম এবং উৎপাদনশীল নাগরিক ছাড়া টেকসই উন্নয়ন আসাম্ভব। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাই আগামী দিনে মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং সফল কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে দাঁড়াবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *