সোনালী বিবির প্রত্যাবর্তন থেকে ওবিসি মামলা, এবার কলকাতা হাইকোর্টের ব্যাটন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর হাতে

সোনালী বিবির প্রত্যাবর্তন থেকে ওবিসি মামলা, এবার কলকাতা হাইকোর্টের ব্যাটন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর হাতে

কলকাতা হাইকোর্টের শীর্ষ পদে বড় রদবদল ঘটল। বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের অবসরের পর আদালতের নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। ২০ জুন, শনিবার বর্তমান প্রধান বিচারপতির কার্যকালের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সুপ্রিম ঐতিহ্য মেনে হাইকোর্টের প্রবীণতম বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীকেই এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বেছে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাষ্ট্রপতির এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। সংবিধানের ২২৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁর এই নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আইনজীবী থেকে প্রধান বিচারপতির আসন

৬০ বছর বয়সী বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর আইনি কর্মজীবন দীর্ঘ এবং অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। ১৯৯১ সালে আইনজীবী হিসেবে কলকাতা হাইকোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করার পর টানা ২২ বছর তিনি এই পেশায় যুক্ত ছিলেন। এরপর ২০১৩ সালে তিনি হাইকোর্টের বিচারপতি এবং ২০১৬ সালে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। দীর্ঘ আইনি বোঝাপড়া এবং নিরপেক্ষতার কারণেই সর্বোচ্চ বিচারালয়ের এই গুরুদায়িত্ব তাঁর কাঁধে সঁপে দেওয়া হয়েছে।

ঐতিহাসিক কিছু রায় এবং বিচারপতির পর্যবেক্ষণ

বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর কর্মজীবন একাধিক যুগান্তকারী এবং সংবেদনশীল রায়ের সাক্ষী। প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিঙ্গেল বেঞ্চের দেওয়া ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া, রাজ্যের রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ওবিসি শংসাপত্র সংক্রান্ত তাঁর রায়টি ছিল অত্যন্ত দূরপ্রসারী। ২০১০ সালের পর ইস্যু হওয়া সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিলের নির্দেশ দিয়ে তিনি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যে, তৃণমূল সরকারের আমলে ১১৩টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল না। মানবাধিকার রক্ষায় তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল বাংলাদেশি সন্দেহে দিল্লি পুলিশ কর্তৃক পুশব্যাক করা অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বিবিসহ ৬ জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ।

আগামী দিনে সম্ভাব্য প্রভাব

কলকাতা হাইকোর্টের শীর্ষ পদে বিচারপতি চক্রবর্তীর আগমন রাজ্যের বিচারব্যবস্থায় এক নতুন গতিশীলতা আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর দেওয়া ওবিসি এবং প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক বড় রায় বর্তমানে দেশের শীর্ষ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন রয়েছে। এই অবস্থায় তাঁর নেতৃত্বে কলকাতা হাইকোর্টের আগামী দিনের কার্যপ্রক্রিয়া এবং বিচারাধীন মামলাগুলোর নিষ্পত্তি কোন অভিমুখে যায়, তার ওপর বিশেষ নজর থাকবে আইনজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *