ইউনুস আমলে রেকর্ড অর্থ পাচার, সুইস ব্যাঙ্কে বাংলাদেশিদের আমানতে বিশাল উল্লম্ফন!

ইউনুস আমলে রেকর্ড অর্থ পাচার, সুইস ব্যাঙ্কে বাংলাদেশিদের আমানতে বিশাল উল্লম্ফন!

সুইজারল্যান্ডের ব্যাঙ্কগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ‘সুইস ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক’ (এসএনবি)-এর বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে এসে এই আমানতের পরিমাণ এক লাফে বিপুল পরিমাণে বেড়েছে, যা মূলত শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বিগত দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে নির্দেশ করছে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী এই শাসনামলে দেশ থেকে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে।

সুইস ব্যাঙ্কের তথ্য ও অতীতের রেকর্ড

সুইস ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সুইস ব্যাঙ্কে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালের শেষে তা ৪১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লক্ষ সুইস ফ্রাঁতে। বর্তমান বাজারদরে প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা হিসাব করলে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। বিগত ১০ বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমানতের রেকর্ড। এর আগে ২০২১ সালে বাংলাদেশিদের আমানত সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১১ লক্ষ সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছেছিল। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ৮৩৪.২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ আমানত নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

অর্থ পাচারের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, অন্তর্বর্তীকালীন মেয়াদের প্রশাসনিক শিথিলতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে দেশ থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে। তবে সুইস ব্যাঙ্কই অর্থ পাচারের একমাত্র গন্তব্য নয়, বরং এটি মোট পাচার হওয়া অর্থের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। বাংলাদেশ থেকে সাধারণত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কেম্যান আইল্যান্ড ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয়ে থাকে। সুইস ব্যাঙ্কের হিসাবের সূত্র ধরে ধারণা করা হচ্ছে, গত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে অন্তত ২ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। বিগত সরকারের আমলের গড় বার্ষিক পাচারের চেয়েও এই অঙ্ক প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বেশি।

দেশ থেকে এভাবে রেকর্ড পরিমাণ মূলধন বাইরে চলে যাওয়ার ফলে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর ক্ষতিকর প্রভাবে দেশের সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্য খাতের স্বাভাবিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে এবং সামগ্রিক জনজীবন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। বিপুল অঙ্কের এই অর্থ পাচারের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং এবারের বাজেটে এ বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *