বিশ্ববাজারে সস্তা অপরিশোধিত তেল, দেশের বাজারে কি কমবে পেট্রোল-ডিজেলের দাম!

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) দামে বড়সড় পতন ঘটলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMCs) পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দর অপরিবর্তিত রেখেছে। ফলে গত ২৫ মে-র পর থেকে দেশীয় বাজারে জ্বালানির দামে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি, যা সাধারণ গ্রাহকদের স্বস্তির অপেক্ষাকে আরও দীর্ঘায়িত করেছে।
কেন বিশ্ববাজারে হঠাৎ কমল তেলের দাম
বৈশ্বিক বাজারে হঠাৎ তেলের দাম কমার নেপথ্যে রয়েছে একটি বড় ভূরাজনৈতিক সমঝোতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার একটি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এড়াতে সমঝোতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ও বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে তেল সরবরাহের প্রধান মাধ্যম ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীটি খুলে যাওয়ার বার্তা আসতেই আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলি দ্রুত তেল বিক্রি করতে শুরু করে। সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার এই আশক্ষায় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় বেশ খানিকটা কমে যায়।
দেশীয় বাজারে প্রভাব এবং কলকাতা ও অন্যান্য শহরের দরদাম
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও ভারতের খুচরো বাজারে এর কোনো তাৎক্ষণিক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং স্থানীয় কর বা ভ্যালটের (VAT) পার্থক্যের কারণে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে জ্বালানির দাম আলাদা হয়ে থাকে। প্রতিদিন সকাল ৬টায় তেল বিপণন সংস্থাগুলি মূল্য সংশোধন করলেও মে মাসের শেষের পর থেকে নতুন করে দাম কমানো হয়নি।
আজ কলকাতায় প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৩.৪৭ টাকা থেকে ১১৩.৫১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং ডিজেল বিকোচ্ছে ৯৯.৮২ টাকায়। রাজধানী নতুন দিল্লিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম যথাক্রমে ১০২.১২ টাকা এবং ৯default৫.২০ টাকা। বাণিজ্য নগরী মুম্বইতে পেট্রোল ১১১.২১ টাকা ও ডিজেল ৯৭.৮৩ টাকা। চেন্নাইতে পেট্রোল ১০৭.৮৮ টাকা ও ডিজেল ৯৯.৫৫ টাকায় থিতু রয়েছে। এছাড়া বেঙ্গালুরুতে ডিজেল ৯৮.৮০ টাকা, হায়দরাবাদে ১০৩.৮২ টাকা এবং আহমেদাবাদে ৯৭.৯১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের এই দরপতনের সুফল দেশীয় উপভোক্তারা কবে পাবেন, তা এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।