অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে এবার কড়া প্রশাসনিক দাওয়াই, ঠিক কী বদল আসছে এই মেগা প্রকল্পে!

বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতি মতো রাজ্যে চালু হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। এই যোজনার আওতায় রাজ্যের মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে প্রকল্প চালুর কিছুদিনের মধ্যেই এবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে কড়া অবস্থান নিল প্রশাসন। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক মন্তব্য এবং নতুন নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে।
কড়াকড়ির মূল কারণ ও মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের টাকা যাতে সঠিক এবং যোগ্য মানুষের হাতে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সমস্ত তথ্য ও নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে তবেই এই সরকারি উন্নয়নমূলক যোজনার সুবিধা দেওয়া হবে। বিশেষ করে, যাঁরা সচেতনতার অভাবে সন্তানদের টিকাকরণ করাননি, তাঁদের ক্ষেত্রে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে যাঁদের সত্যিই এই ভাতার প্রয়োজন এবং যাঁরা অন্য কোনো ক্ষেত্র থেকে সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁদেরই এই তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আবেদন প্রক্রিয়ার সরলীকরণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দিতে ১৫ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’ শুরু হয়েছে। আগে এই ভাতার আবেদনের জন্য ১২ পাতার জটিল ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছিলেন সাধারণ মানুষ। জটিলতা এড়াতে এবার সরকারের পক্ষ থেকে ফর্ম পূরণের নিয়ম অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে; জানানো হয়েছে পুরো ফর্ম না পূরণ করলেও আবেদন গ্রাহ্য হবে। এছাড়া সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনেই আবেদন ও ভেরিফিকেশনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের এই নতুন কড়াকড়ির ফলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে যেমন স্বচ্ছতা আসবে, তেমনই টিকাকরণের মতো জরুরি সামাজিক বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার কড়াকড়িতে প্রকৃত প্রাপকদের কেউ যাতে বাদ না পড়েন, সেই দিকেই এখন মূল নজর প্রশাসনের।