তৃণমূল ছাড়তেই মানসকে ‘দাদা’ বললেন দিলীপ ঘোষ! পদ্মে যোগদানের প্রশ্নে সাফ বললেন দরজায় তালা

রাজ্যের ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড়সড় বিপর্যয়ের পর দল ছেড়েছেন সবংয়ের প্রবীণ নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। গত শনিবারই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন তিনি। এই দলত্যাগের আবহের মধ্যেই খড়গপুরের চৌরঙ্গী এলাকার এক কর্মসূচিতে দাঁড়িয়ে মানস ভুঁইয়ার প্রতি বিশেষ রাজনৈতিক সৌজন্য প্রকাশ করলেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতা তথা রাজ্যের বর্তমান পঞ্চায়েত ও कृषि বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তবে ব্যক্তিগত স্তরে শ্রদ্ধাবোধ থাকলেও, মানসবাবুর বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনাকে একপ্রকার হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
‘দাদার মতো সম্মান করি, তবে আমাদের দরজা বন্ধ’
মানস ভুঁইয়ার তৃণমূল ত্যাগ নিয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, রাজনীতিতে মানসবাবু তাঁর থেকে অনেক সিনিয়র এবং ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। তিনি তাঁকে চিরকাল দাদার মতোই সম্মান করেন। তবে তৃণমূলের এই প্রাক্তন হেভিওয়েট নেতা বিজেপিতে আসছেন কি না, সেই মোক্ষম প্রশ্নে সাংবাদিকদের অত্যন্ত কাটখোট্টা উত্তর দেন দিলীপ ঘোষ।
দিলীপ ঘোষের প্রধান বক্তব্যগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
- রাজ্য সভাপতির তালা: দিলীপ ঘোষ সাফ জানান যে, দলের রাজ্য সভাপতি ইতিমধ্যেই অন্য দল থেকে আসার দরজায় পাকাপাকিভাবে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। ফলে নতুন করে আর কাউকে দলে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন বা পরিকল্পনা নেই।
- বিপুল জনাদেশ: ক্ষমতার সমীকরণ স্পষ্ট করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের আর কাউকে পাওয়ার দরকার নেই। জনাদেশ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। বাংলার জনগণ আমাদের ২০৮টি আসন দিয়ে বিপুল সমর্থন জানিয়েছেন। এত আসন পাওয়ার পর আর কাকে দরকার আছে? এবার ওঁরাই ঠিক করুন কার কী লাগবে।”
- তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ: তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ নেতাদের একাংশের নতুন দল গঠন নিয়ে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, সব ভালো রাজনৈতিক দলের দরজা এখন তৃণমূলের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই তারা এখন কোথা থেকে এক নতুন পার্টি তৈরি করে নিজেরাই সেখানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
দিলীপ ঘোষের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মানস ভুঁইয়া
অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়ার পর দিলীপ ঘোষের ভূয়সী প্রশংসা করতে শোনা গিয়েছে মানস ভুঁইয়াকেও। দিলীপ ঘোষকে অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ এবং সরাসরি কথা বলা স্পষ্টভাষী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। একই সাথে রাজ্যের পঞ্চায়েতের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব পাওয়ায় দিলীপ ঘোষ আগামী দিনে গ্রামবাংলার সার্বিক উন্নয়নে দারুণ কাজ করবেন বলে আশাপ্রকাশ করেন বর্ষীয়ান এই নেতা।
রশ্মি মেটালিক্সের দূষণ রোধে কড়া বার্তা
এদিনের খড়গপুরের কর্মসূচি থেকে খড়গপুর গ্রামীণ থানা এলাকার রশ্মি মেটালিক্স (Rashmi Metallics) কারখানা থেকে ছড়ানো মারাত্মক পরিবেশ দূষণের অভিযোগ নিয়েও মুখ খোলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, এলাকার দূষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারখানা কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কথা বলেছে এবং তাঁর সাথেও ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছে। মন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যাতে অবিলম্বে ওই অঞ্চলের দূষণ কমাতে প্রয়োজনীয় সমস্ত আধুনিক পদক্ষেপ করা হয় এবং দ্রুত এর ফল পাওয়া যায়। অন্যদিকে কারখানার পক্ষ থেকেও এক বিবৃতিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।