ম্যাচ শেষেই আমেরিকা থেকে ইরান দলকে ‘ঘাড়ধাক্কা’! ফিফার দ্বারস্থ মেহদি তারেমির দল

চলতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এবার বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিল মাঠের বাইরের রাজনীতি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করার পরপরই চরম হেনস্তার শিকার হতে হলো ইরান ফুটবল দলকে। ম্যাচ শেষ হতে না হতেই কোনো রকম রিকভারির সময় না দিয়ে ফুটবলার এবং সাপোর্ট স্টাফদের অবিলম্বে আমেরিকা ছাড়ার নির্দেশ দেয় মার্কিন প্রশাসন। ফলে বাধ্য হয়েই প্রায় ১৪০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় নিজেদের বেস ক্যাম্পে ফিরে যেতে হয়েছে মেহদি তারেমিদের।
ভিসা জটিলতা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণের অভিযোগ
জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরান দলকে শুধুমাত্র ম্যাচের সময়টুকুর জন্যই মার্কিন ভিসা দেওয়া হয়েছিল। অথচ প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার একটি হোটেলে ম্যাচ পরবর্তী রাতটি কাটানোর কথা ছিল ইরানি শিবিরের। ম্যাচের আগে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নিয়ে কোনো আপত্তি তোলা না হলেও, খেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অবস্থান বদল করে তারা। ইরানের কোচ আমির ঘালেনোই এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অন্যায় আচরণ বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই ধরণের জোরপূর্বক সিদ্ধান্তের কারণে ফুটবলাররা শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
খেলোয়াড়দের ফিটনেসে প্রভাব ও ফিফার ভূমিকা
ক্রীড়াবিশ্বে রাজনৈতিক তিক্ততার এই প্রভাব ইরানের বিশ্বকাপ মিশনকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। অনুশীলনের জন্য মেক্সিকোতে থাকা এবং ম্যাচের জন্য তাড়াহুড়ো করে আমেরিকায় যাতায়াত করার ফলে ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রামে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা তাঁদের মাঠের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে এবং আয়োজক দেশের এমন আচরণের বিরুদ্ধে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইরানের অধিনায়ক মেহদি তারেমি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাজনৈতিক বৈরিতার এই ঘটনায় ফিফা শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।