বারাসাত পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের ইস্তফা! তুঙ্গে বিতর্ক

বারাসত পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের ইস্তফা! তুঙ্গে বিতর্ক

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল পরিচালিত পুরসভাগুলির কাজ সচল রাখা নিয়ে যখন প্রশাসনিক টানাপড়েন তুঙ্গে, ঠিক তখনই মেয়াদের আগেই পদত্যাগ করলেন বারাসাত পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার শৈবাল কুমার মাইতি। সোমবার তিনি পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। রাজ্য সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘জনকল্যাণ শিবির’ শুরুর প্রথম দিনেই এই হাই-প্রোফাইল ইস্তফাকে কেন্দ্র করে বারাসাত পুরসভা এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

জেলাশাসকের ক্ষোভ নাকি বিজেপি বিধায়কের আরটিআই, নেপথ্যে কোন কারণ?

মাত্র দেড় বছর আগে বারাসাত পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন শৈবাল কুমার মাইতি। তাঁর এই আকস্মিক ইস্তফার নেপথ্যে জেলাশাসকের (DM) ক্ষোভ এবং নতুন বিজেপি বিধায়কের প্রশাসনিক চাপ কাজ করেছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

ঘটনার মূল কারণ ও প্রেক্ষাপট নিচে তুলে ধরা হলো:

  • জেলাশাসকের সাথে সংঘাত: বারাসাত পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় দাবি করেছেন, সোমবার থেকে শুরু হওয়া রাজ্য সরকারের ‘জনকল্যাণ শিবির’ পরিচালনার কাজে কিছু গাফিলতি বা ত্রুটি নজরে এসেছিল। এই নিয়ে জেলাশাসক ওই এগজিকিউটিভ অফিসারের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাঁদের মধ্যে একপ্রকার রাগারাগি হয়। সেই কারণেই শৈবালবাবু পদত্যাগ করেছেন বলে চেয়ারম্যান জানান।
  • বিজেপি বিধায়কের কড়া নজরদারি: রাজ্যে ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতেই বারাসাতের বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় পুরসভার কাজকর্মের স্বচ্ছতা নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন নিয়ে কোনও দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা জানতে তিনি ইতিমধ্যেই এগজিকিউটিভ অফিসারসহ বিভিন্ন doptor-এর আধিকারিকদের নিয়ে দু’বার পর্যালোচনা বৈঠক করেন।
  • তথ্য গোপন ও আরটিআই-এর চাপ: পুরসভার তরফ থেকে সঠিক ও স্বচ্ছ তথ্য না পাওয়ায় বিধায়কের মনে বড়সড় দুর্নীতির সন্দেহ দানা বাঁধে। পুরসভার আসল কীর্তি ফাঁস করতে সম্প্রতি তিনি তথ্যের অধিকার আইনে (RTI) আবেদনও জানান। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, একদিকে নতুন সরকারের বিধায়কের আরটিআই-এর চাপ এবং অন্যদিকে জেলাশাসকের ধমক— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপেই পদত্যাগের রাস্তা বেছে নিয়েছেন ওই আধিকারিক।

ইস্তফাপত্র নিয়ে ধোঁয়াশা এবং পুরসভার ভবিষ্যৎ

সোমবার বারাসাত পুরসভা এলাকার রজনীগন্ধা, বারাসাত স্টেডিয়াম, মনোরঞ্জন স্মৃতি সঙ্ঘ এবং নপাড়া কালীবাড়ি সংলগ্ন কিশোর স্পোর্টিং ক্লাবে ধুমধাম করে জনকল্যাণ শিবির শুরু হয়। কিন্তু প্রথম দিনেই এই ইস্তফায় পুরো শিবির পরিচালনা ও নাগরিক পরিষেবা দেওয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

ইস্তফা পরবর্তী প্রশাসনিক পরিস্থিতি:

  • এসডিও-র বয়ান: বারাসাত পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি ইস্তফাপত্রটি পাওয়া মাত্রই তা বারাসাতের মহকুমা শাসক বা এসডিও (SDO) ভুবনা প্রণীত পাপ্পুলার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে এসডিও জানিয়েছেন, তিনি এখনও কোনও লিখিত পদত্যাগপত্র হাতে পাননি। নথিপত্র হাতে পেলে তবেই তিনি এই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
  • দায়িত্বে জেলা প্রশাসন: অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে এগজিকিউটিভ অফিসারের ইস্তফার জেরে বারাসাত পুরসভার দৈনন্দিন কাজকর্ম, নাগরিক পরিষেবা এবং জনকল্যাণ শিবির পরিচালনার পুরো রাশ এখন জেলা প্রশাসনের হাতে চলে যাচ্ছে।

নিজের ইস্তফা দেওয়া কিংবা জেলাশাসকের সাথে রাগারাগির বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি শৈবাল কুমার মাইতি। তবে পালাবদলের আবহে বারাসাত পুরসভার এই প্রশাসনিক অচলাবস্থা আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *