পাপের ফল ভুগছেন মমতা! পরের বার বিদ্রোহীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বলে চরম হুঁশিয়ারি নওশাদের

পাপের ফল ভুগছেন মমতা! পরের বার বিদ্রোহীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বলে চরম হুঁশিয়ারি নওশাদের

রাজ্য রাজনীতিতে নির্বাচন-পরবর্তী আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে চলা নজিরবিহীন ভাঙন ও ছন্নছাড়া দশা নিয়ে এবার তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর যেখানে একদিকে তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক দলনেত্রীর নির্দেশ অমান্য করে পৃথক ব্লক তৈরি করেছেন, অন্যদিকে দিল্লির সংসদে অধিকাংশ সাংসদ দল ছেড়ে সরাসরি এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন, সেই আবহে দলত্যাগী নেতা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উভয় পক্ষকেই একহাত নিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক।

দল ভাঙানোর সংস্কৃতির আমদানি করেছিলেন মমতাই

তৃণমূলের এই বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের জন্য খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত রাজনীতিকেই দায়ী করেছেন নওশাদ সিদ্দিকি। তিনি স্পষ্ট জানান, তৃণমূল নেতারা যে স্তরের দুর্নীতি করেছেন, আজ তাঁদের সেই পাপের ফলই ভোগ করতে হচ্ছে।

নওশাদের বক্তব্যের মূল দিকগুলি নিচে দেওয়া হলো:

  • দল ভাঙানোর খেলা: বাংলায় দল ভাঙানোর এই নোংরা সংস্কৃতির আমদানি স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই শুরু করেছিলেন।
  • তৃণমূলের অতীত আচরণ: ক্ষমতায় থাকার সময় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিরোধী দলের সাধারণ একজন পঞ্চায়েত প্রধানকেও রেয়াত করত না, তাঁদের জোর করে দলে টানত। আজ প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে নিজের দলের ভাঙন দেখে মমতাজিকে তার খেসারত দিতে হচ্ছে।

সংখ্যালঘু ভোটের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা এবং জামানত বাজেয়াপ্তের হুঁশিয়ারি

নওশাদ সিদ্দিকি নিজেকে দলবদলের চরম বিরোধী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে, দুর্নীতি থেকে পিঠ বাঁচাতে যাঁরা এখন বকলমে বা পরোক্ষভাবে বিজেপিকে সুবিধা করে দিচ্ছেন, বাংলার মানুষ তাঁদের কোনও অবস্থাতেই ক্ষমা করবে না।

বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদকে তীব্র আক্রমণ করে আইএসএফ বিধায়ক বলেন, তাঁরা সাধারণ মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। অথচ আজ সেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট পকেটে পুরে তাঁরা এমন এক বিজেপিকে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন, যারা প্রতিনিয়ত সংখ্যালহুদের কোণঠাসা করার চেষ্টা চালায়। নওশাদ দায়িত্ব নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে এই সমস্ত সুবিধাবাদী নেতাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব সম্পূর্ণ মুছে যাবে। আগামী দিনে তাঁদের হয় সরাসরি বিজেপির টিকিটে লড়তে হবে, অন্যথায় বাংলার সচেতন জনগণ তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত করে ছাড়বে।

বিধানসভায় আসল বিরোধী ভূমিকা পালন করবেন নওশাদরাই

আগামী ১৮ই জুন থেকে শুরু হতে চলা রাজ্য বিধানসভার আসন্ন অধিবেশন নিয়ে নিজের রণকৌশল স্পষ্ট করেছেন আইএসএফ-এর একমাত্র বিধায়ক। তিনি অভিযোগ করেন, বিধানসভার বর্তমান পরিস্থিতিতে শাসকপক্ষ সবসময় নিজেদের মনের মতো একটা ‘সেট বিরোধী’ তৈরি করতে চায়, যাতে সরকারের কোনো সমালোচনা না হয়। তবে ভুয়ো বিরোধীদের মুখোশ খুলে দিয়ে বিধানসভার ভেতরে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল এবং জোরালো বিরোধীর ভূমিকা যে মুস্তাফিজুর কিংবা নওশাদদেরই পালন করতে হবে, তা নিয়ে তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত। ১৮ তারিখ অধিবেশন শুরু হলেই পুরো রাজনৈতিক ছবিটা আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *