সই জালকাণ্ডে এবার স্পিকারকে কাঠগড়ায় তুলল হাইকোর্ট, ‘ঘরে বসে সিদ্ধান্ত কীভাবে?’ প্রশ্ন বিচারপতির

কলকাতা: বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন এবং বিধায়কদের সই জাল করার ঘটনা নিয়ে এবার খোদ স্পিকারের ভূমিকা নিয়েই নজিরবিহীন প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বাংলার রাজনীতিতে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে, তা এবার আদালতের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়ল। মঙ্গলবার মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পিকারের এক্তিয়ার ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।
বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানতে চান, বিধানসভার অধিবেশন না ডেকে স্পিকার কীভাবে নিজের চেম্বারে বসে কোন পক্ষে কতজন বিধায়ক আছেন তা নির্ধারণ করলেন? বিচারপতির স্পষ্ট প্রশ্ন, “ঘরে বসে সিদ্ধান্ত কীভাবে? একই দলের দুই পক্ষ যদি দুটো আলাদা প্রস্তাব দেয়, তবে হাউস (অধিবেশন) না ডেকে স্পিকার নিজের চেম্বারে বসে কী করে জানলেন কোন পক্ষে কতজন আছেন? বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাব হওয়ার পরেও কেন অধ্যক্ষ চুপ করে থাকলেন?”
কী এই সই জালকাণ্ড?
নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার সুপারিশ জানিয়ে স্পিকারের কাছে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু নাটকীয় মোড় ঘটিয়ে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন যে, তালিকায় তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। এরপরই ঘটনার তদন্তে নামে সিআইডি।
আদালতে স্পিকারের পক্ষে সওয়াল:
এদিন আদালতে স্পিকারের পক্ষে রাজ্যের অ্যাডিশনাল এজি বিল্বদল ভট্টাচার্য যুক্তি দিয়ে বলেন, “স্পিকার কোনও রাবার স্ট্যাম্প নন, তাঁকে সবদিক বিবেচনা করতে হয়। যে তালিকা পাঠানো হয়েছিল, সেখানে বিধায়কদের সই ছিল না, ব্লক লেটারে নাম লেখা ছিল।” তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই ৫৮ জন বিধায়ক সই করে বিরোধী দলনেতার নামের নতুন তালিকা স্পিকারকে জমা দিয়েছেন।
শুনানি শেষে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, সই জালের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় কোনও আইনি ভুল নেই। তবে মূল প্রশ্ন হলো, বিধানসভার রীতিনীতি লঙ্ঘন করে অধিবেশন না ডেকে স্পিকার নিজে থেকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কি না। আগামী শুনানিতে আদালতের এই কড়া অবস্থানের পর বিধানসভার এই রাজনৈতিক জট কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।