দিল্লির এয়ারপোর্টে হেনস্থার জেরে ঢাকা প্রত্যাবর্তন! চাপের মুখে হঠাৎ সুর নরম করলেন তারেকের উপদেষ্টা জাহেদ

দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক (IGI) বিমানবন্দরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে থাকার পর ভারতে প্রবেশ না করেই ঢাকায় ফিরে যাওয়ার হাইপ্রোফাইল ঘটনায় এবার মুখ খুললেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার ঢাকার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। ক্ষোভের মাথায় দিল্লি সফর বাতিল করে ফিরে গেলেও, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের চাপে পড়ে কিছুটা সুর নরম করতে দেখা গেল বাংলাদেশের এই শীর্ষ প্রতিনিধিকে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, সঠিক নিয়ম মেনে চললে ভবিষ্যতে ভারতের মাটিতে পা রাখতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই।
‘এটা শেখ হাসিনার সরকার নয়’, দিল্লিকে কড়া বার্তা জাহেদের
মঙ্গলবার ঢাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করে দেন যে, বিমানবন্দরে হেনস্থার শিকার হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ভারত সফর বাতিল করাটা তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষোভ ছিল না, বরং তা ছিল একটি কূটনৈতিক প্রতিবাদ।
এই বিষয়ে তাঁর প্রধান যুক্তিগুলি নিচে দেওয়া হলো:
- কূটনৈতিক বার্তা: দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল যে, বর্তমান বাংলাদেশ সরকার আর শেখ হাসিনার পুরোনো আমলের সরকার নয়।
- জনসমর্থনপ্রাপ্ত সরকার: বর্তমান প্রশাসন সম্পূর্ণ জনসমর্থনপ্রাপ্ত একটি সার্বভৌম সরকার, যা দেশের কোনও প্রতিনিধির আসাম্মান বা হেনস্থাকে মুখ বুজে সহ্য করবে না।
- রাষ্ট্রের প্রতিনিধি: জাহেদ জানান, তিনি ব্যক্তিগত পরিচয়ে নয়, বরং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি হিসেবেই ভারতে গিয়েছিলেন। তাই আড়াই ঘণ্টা ওয়াচলিস্টের অছিলায় আটকে রাখার পর পরবর্তীতে যখন তাঁকে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়, তখনও তিনি আত্মসম্মান বজায় রাখতে আর ভারতে প্রবেশ না করে ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
পুরনো ভারত-বিরোধিতা এবং দিল্লির ওয়াচলিস্টের জট
কূটনৈতিক মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহেদ উর রহমান মূলত কূটনৈতিক পাসপোর্টের পরিবর্তে সাধারণ পাসপোর্ট নিয়ে ভারতে আসছিলেন। তার ওপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় নজরদারি তালিকা বা ‘ওয়াচলিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
জাহেদের এই ওয়াচলিস্টে থাকার পেছনে তাঁর অতীত কার্যকলাপ ও তীব্র ভারত-বিদ্বেষী মনোভাবই প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে একটি নামী টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি ভারতকে ‘নির্বোধ প্রতিবেশী’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের তীব্র সমালোচনা করে তাঁরা ভারতের বুকে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছেন বলেও চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছিলেন এই বাংলাদেশি উপদেষ্টা।
ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
ঢাকায় ফিরে আসার পর বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই ভারতের এক শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে এই হেনস্থার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে জল বেশি দূর গড়ানোর আগেই পরিস্থিতি সামাল দিতে ড্যামেজ কন্ট্রোলের পথে হেঁটেছেন খোদ জাহেদ উর রহমান।
দিল্লির সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে তাঁর বর্তমান অবস্থানগুলি হলো:
- সম্পর্কের অবনতি রোধ: জাহেদ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বিমানবন্দর থেকে তাঁর ফিরে আসার সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য কোনওভাবেই ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটানো নয়।
- canনোজেন শান্তিকামী অবস্থান: বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী কোনও রাষ্ট্রের সাথেই কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ করতে চায় না।
- ভবিষ্যতের সফর: তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাটি দুই দেশের সুদূরপ্রসারী ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ককে কোনওভাবে প্রভাবিত করবে না। সেই সাথে তিনি আশ্বাস দেন যে, আগামী দিনে যথাযথ প্রক্রিয়া ও প্রোটোকল অনুসরণ করা হলে তিনি আবারও ভারত সফরে যেতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।