কাকলি-সুদীপ-শতাব্দীদের আদৌ কি দলে নেবে NCPI? সামনে এল মস্ত বড় আপডেট

দিল্লির সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি ও রাজনৈতিক জল্পনায় এবার সবচেয়ে বড় আপডেট সামনে এল। অখ্যাত দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI) কি আদৌ তৃণমূলের হেভিওয়েট দলত্যাগীদের নিজেদের ছাতার তলায় আশ্রয় দেবে? এই কোটি টাকার প্রশ্নের উত্তর নিজেই সম্পূর্ণ স্পষ্ট করলেন বারাসাতের বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। মঙ্গলবার সংসদ ভবন চত্বরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানান, এনসিপিআই তাঁদের পুরো গোষ্ঠীকে নিজেদের দলে শামিল করতে সানন্দে সম্মত হয়েছে।
এনসিপিআই-এর সবুজ সংকেত এবং বাড়ল বিদ্রোহীদের সংখ্যা
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি অনুযায়ী, ২০ জন সাংসদ নিয়ে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহের বহর আগামী দিনে আরও বাড়তে চলেছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে ইতিমধ্যে আলাদা ব্লকে বসার এবং এনসিপিআই-এর সদস্য হিসেবে কাজ করার যে আবেদন তাঁরা জানিয়েছিলেন, তা এবার চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে।
এই বিষয়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রধান অবস্থানগুলি হলো:
- ইতিবাচক সাড়া: এনসিপিআই নেতৃত্বের কাছ থেকে বিদ্রোহী সাংসদেরা অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন। দলটি তাঁদের অত্যন্ত আগ্রহের সাথে স্বাগত জানাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
- সংখ্যা বৃদ্ধির ইঙ্গিত: লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সংখ্যা বর্তমানে আগের চেয়ে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০ জন দিয়ে শুরু হলেও এই সংখ্যাটি খুব শীঘ্রই ২২-এ পৌঁছাতে পারে বলে দাবি করেছেন কাকলি।
- মোদী-শাহের নেতৃত্বে আস্থা: এনসিপিআই-এর অংশ হিসেবে লোকসভায় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এনডিএ (NDA) জোটের শরিক হিসেবে একযোগে কাজ করবেন।
বিধায়কদের কোন্দল থেকে স্পষ্ট দূরত্বের বার্তা
বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের যে সমস্ত বিধায়কেরা দলনেত্রীর নির্দেশ অমান্য করে আলাদা পরিষদীয় গোষ্ঠী তৈরির পথে হেঁটেছেন, তাঁদের সাথে নিজেদের স্পষ্ট দূরত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন কাকলি।
“রাজ্যের ওই বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে আমাদের সংসদীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কোনও সাংগঠনিক বা ব্যক্তিগত যোগাযোগ নেই। তাঁরা সম্পূর্ণ একটি আলাদা গোষ্ঠী। তাঁদের রাজনৈতিক ইস্যু, পরিস্থিতি এবং কর্মসূচি আমাদের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। অন্য কোনও দলে যোগ দেওয়া নিয়ে আমাদের অবস্থান যেন একদম স্পষ্ট থাকে, সেটা সুনিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
— কাকলি ঘোষ দস্তিদার, বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ
রাতারাতি শিরোনামে অখ্যাত এনসিপিআই
নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক নথি খতিয়ে দেখলে জানা যায়, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছিল এই ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই। এতদিন জাতীয় বা আঞ্চলিক politics-এ এই দলের সেভাবে কোনও বড় পরিচিতি বা প্রভাব না থাকলেও, ছাব্বিশের এই হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক দলবদলের আবহে রাতারাতি দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে প্রধান শিরোনামে চলে এসেছে এই অখ্যাত দলটি। এখন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার ঘরে এই ২২ জন সাংসদের ভাগ্য আইনি পরিভাষায় কোন দিকে ঘোরে, তার ওপরই নজর রাজনৈতিক মহলের।