হায়দরাবাদে ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ, উদ্বোধনের আগেই তুঙ্গে political তরজা!

হায়দরাবাদে ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ, উদ্বোধনের আগেই তুঙ্গে political তরজা!

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি নগরী হায়দরাবাদে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাস্তার উদ্বোধন হতে চলেছে। তেলেঙ্গানার কংগ্রেস সরকার শহরের মার্কিন দূতাবাসের কাছের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। চলতি মাসের শেষেই এই রাস্তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শুধু ট্রাম্পই নন, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের নামে আরও বেশ কিছু সড়কের নামকরণের মেগা পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।

বিশ্বমঞ্চে হায়দরাবাদকে তুলে ধরার প্রয়াস

গত বছরের ডিসেম্বরে দিল্লিতে আয়োজিত বার্ষিক মার্কিন-ভারত সম্মেলনে যোগ দিয়ে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এই পরিকল্পনার আভাস দিয়েছিলেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী অত্যন্ত দ্রুততার সাথে রাস্তার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের মূল কারণ হলো হায়দরাবাদকে একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ব্যবসা ও প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপন করা। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাভিরিয়ালার গ্রিনফিল্ড রেডিয়াল রিং রোডের নাম বদলে রাখা হচ্ছে প্রয়াত শিল্পপতি রতন টাটার নামে। এছাড়া শহরের অন্যান্য রাস্তার নাম ‘গুগল স্ট্রিট’, ‘মাইক্রোসফট রোড’ এবং ‘উইপ্রো রোড’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নামকরণে রাজনৈতিক বিরোধ ও তীব্র কটাক্ষ

কংগ্রেস সরকারের এই আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং কৌশলের তীব্র বিরোধিতা করেছে বিরোধী দল বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বান্দি সঞ্জয় কুমার এই সিদ্ধান্তকে স্রেফ ‘ট্রেন্ডিংয়ে গা ভাসানো’ বলে কটাক্ষ করেছেন। এর পাল্টা হিসেবে হায়দরাবাদের নাম পরিবর্তন করে ‘ভাগ্যনগর’ করার পুরনো দাবি নতুন করে সামনে এনেছে পদ্ম শিবির। তবে বিজেপির এই রাজনৈতিক খোঁচা ও সমালোচনাকে আমল না দিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে তেলেঙ্গানা সরকার।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নামকরণের মাধ্যমে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি শক্তিগুলোর সাথে তেলেঙ্গানার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন দূতাবাসের পাশে ট্রাম্পের নামে রাস্তার নামকরণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি প্রতীকী বার্তা বহন করে। তবে স্থানীয় ঐতিহ্য বাদ দিয়ে বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে নামকরণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও জোরালো রূপ নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *