জি-৭ সম্মেলনে আবার ফিরল ‘মেলোডি’ ম্যাজিক, ইনস্টাগ্রামে ঝড় তোলার কথা মনে করালেন মেলোনি!

জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের মঞ্চে তখন বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রনেতাদের ভিড়। গুরুগম্ভীর আলোচনা আর ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণের মাঝেই গ্রুপ ফটোর জন্য এক এক করে জড়ো হচ্ছিলেন সবাই। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঠিক তখনই পরিবেশ কিছুটা হালকা করে হাসিমুখে এগিয়ে এলেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। মাত্র কয়েক মুহূর্তের সেই সংক্ষিপ্ত কথোপকথন বিশ্বমঞ্চে এক সহজ-সরল ও আন্তরিক মুহূর্তের জন্ম দিল, যা পুনরুজ্জীবিত করল সোশ্যাল মিডিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় চর্চা ‘মেলোডি’-কে। হাসতে হাসতে মেলোনি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘হ্যাঁ, ইনস্টাগ্রামে এখন আমরাই সবচেয়ে জনপ্রিয়।’
নেটিজেনদের চর্চায় ‘মেলোডি’ রসায়ন
বিশ্ব রাজনীতির অলিন্দে নরেন্দ্র মোদী এবং জর্জিয়া মেলোনির এই পারস্পরিক সৌজন্য ও বন্ধুত্বের রসায়ন নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁদের সেলফি এবং ভিডিও নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল, যা বিশ্বজুড়ে নেটিজেনদের কাছে ‘মেলোডি’ (Melodi) হ্যাশট্যাগ হিসেবে পরিচিতি পায়। এবারের জি-৭ মঞ্চে মেলোনির এই মন্তব্য সেই ডিজিটাল জনপ্রিয়তারই এক অকপট ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। মূলত দুই নেতার সাবলীল ব্যক্তিগত সমীকরণ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিপুল প্রতিক্রিয়াই আন্তর্জাতিক কূটনীতির গম্ভীর পরিবেশেও এমন এক ঘরোয়া আবহের জন্ম দিয়েছে।
কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে সম্ভাব্য প্রভাব
এই হালকা মুহূর্তটির নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য। বর্তমান আন্তর্জাতিক সম্পর্কে রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যকার এমন সুদৃঢ় ব্যক্তিগত সমীকরণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনাকে আরও সহজ ও মসৃণ করে তোলে। ভারত ও ইটালির মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, তা এই গভীর বন্ধুত্বের মাধ্যমে আরও গতি পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং ভূমধ্যসাগরীয় রাজনীতিতে দুই দেশের যৌথ প্রয়াস জোরদার করতে এই কূটনৈতিক আন্তরিকতা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে, আধুনিক যুগের ‘ডিজিটাল ডিপ্লোম্যাসি’ বা ডিজিটাল কূটনীতিতে কীভাবে নেটিজেনদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা যায়, এই ঘটনা তারই এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল।