ভাঙনের মুখে তৃণমূল, বাইপাসের প্রধান কার্যালয় খালি করে নিচ্ছেন বাড়ির মালিক!

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই চরম সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির হাতে ক্ষমতার রাশ যাওয়ার পর একদিকে যেমন দলের একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে কাটমানি ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতারির হিড়িক চলছে, অন্যদিকে তেমনি চলছে ব্যাপক দলবদল। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ প্রায় ২২ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই দল ছেড়েছেন। এই ধারাবাহিক বিপর্যয়ের মাঝেই এবার বাইপাসের ধারে অবস্থিত তৃণমূলের প্রধান কার্যালয়টিরও দখল হারাতে বসেছে দল।
দখল বুঝে নিচ্ছেন মালিক
২০২২ সালে মেট্রোপলিটান বাইপাসের কাছে মডার্ন ডেকরেটরসের মালিক মন্টু সাহার কাছ থেকে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে কর্পোরেট কায়দায় দলের সদর দফতর চালাত তৃণমূল। প্রথম তিন তলা ভাড়ায় নেওয়া হলেও উপরের দুটি তলাতেও দলীয় কাজকর্ম চলত। সংশোধিত চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ভাড়ার মেয়াদ থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাড়ির মালিক আর সেখানে তৃণমূলের অফিস চালাতে দিতে রাজি নন। ইতিমধ্যেই মন্টুবাবু তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূকে নিয়ে চার ও পাঁচতলা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যানার, পোস্টার ও চেয়ার সরানোর কাজ শুরু করেছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে স্থানীয় থানার সাহায্যে পুরো বাড়িটিই ফাঁকা করে নেওয়া হবে বলে মালিকপক্ষ জানিয়েছে।
ঘটনার কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
ক্ষমতা হারানো, নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ এবং দলের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতির কারণেই মূলত বাড়ির মালিক এই চুক্তি বাতিল করে নিজেদের সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করতে চাইছেন। এই ঘটনার প্রভাব তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর বেশ গভীর হবে। বাইপাসের এই ভবনটি সম্পূর্ণ খালি হয়ে গেলে কালীঘাট ছাড়া কলকাতায় তৃণমূলের আর কোনও প্রধান কার্যালয় অবশিষ্ট থাকবে না। এমনিতেই প্রথম সারির সাংসদ ও নেতা-কর্মীদের দলত্যাগের ফলে তৃণমূলের অস্তিত্ব বড়সড় প্রশ্নের মুখে। তার ওপর এই কেন্দ্রীয় কার্যালয় হাতছাড়া হওয়ার ঘটনা দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল আরও ভেঙে দেবে এবং আগামী দিনে তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সমন্বয় পরিচালনাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলবে।