আমি না থাকলে ইজরায়েল মুছে যেত! নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতবিরোধের মাঝেই বিস্ফোরক ট্রাম্প

আমি না থাকলে ইজরায়েল মুছে যেত! নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতবিরোধের মাঝেই বিস্ফোরক ট্রাম্প

ফ্রান্সে চলমান জি-৭ সম্মেলনে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তীব্র মতবিরোধের মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাতারের আমিরের সঙ্গে এক বৈঠকের পর তিনি দাবি করেন, আমেরিকা এবং তিনি নিজে না থাকলে ইজরায়েলকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হতো। ট্রাম্পের মতে, ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা এর আগে অন্য কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নেননি। আমেরিকার হস্তক্ষেপ না থাকলে ইরান ওই অস্ত্র ইজরায়েলের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করত বলে তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।

লেবানন হামলা ও মতবিরোধের কারণ

বর্তমানে লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে ইজরায়েলের ক্রমাগত বোমাবর্ষণ নিয়ে আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে এই মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। লেবাননে ইজরায়েলের দীর্ঘায়িত সামরিক অভিযান ও বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে ট্রাম্প চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একজন হিজবুল্লাহ সদস্যকে খুঁজতে গিয়ে সাধারণ মানুষের বসবাসকারী ফ্ল্যাটবাড়ি উড়িয়ে দেওয়ার নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। পাশাপাশি, ইজরায়েল যদি হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে সেই দায়িত্ব সিরিয়াকে দেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইরান চুক্তি ও মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য প্রভাব

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এই সপ্তাহে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে, যা বর্তমান উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কারণ। কাতারের আমির এই আলোচনার অগ্রগতিকে স্বাগত জানালেও, নেতানিয়াহু এবং ইজরায়েল সরকার এই উদ্যোগে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। এই চুক্তির ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে একদিকে যেমন নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি আমেরিকা ও ইজরায়েলের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্কে ফাটল ধরার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে এবং সাময়িকভাবে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *