শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে ক্ষমা চাইলেন তৃণমূল নেতা

শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে ক্ষমা চাইলেন তৃণমূল নেতা

সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্ট করার জেরে তীব্র জনরোষের মুখে পড়ে প্রকাশ্য সভায় করজোড়ে এবং মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে ক্ষমা চাইলেন জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ির প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জগবন্ধু রায়। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। অবশেষে স্থানীয় একটি বৈঠকে বিজেপি কর্মীদের সামনে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান ওই তৃণমূল নেতা, যার ভিডিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল।

তীব্র জনরোষ ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধূপগুড়ির খট্টিমারি এলাকার একসময়ের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জগবন্ধু রায় নির্বাচনের আগে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে ফেসবুকে একটি আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। তৎকালীন পরিস্থিতিতে বিজেপি কোনো বড় পদক্ষেপ না নিলেও, রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে ওই বিতর্কিত পোস্টটি মুছে ফেলার পাশাপাশি প্রকাশ্য জনসভায় ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলা হয়। তীব্র জনরোষের মুখে পড়ে গত মঙ্গলবার খট্টিমারি স্কুল চৌপতি এলাকায় আয়োজিত একটি বৈঠকে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন তিনি।

উভয় পক্ষের সমঝোতা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

প্রকাশ্য সভায় জগবন্ধু রায় জানান, তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং কোনো চাপ ছাড়াই নিজের ভুল স্বীকার করতে এসেছেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতার এই নজিরবিহীন ক্ষমা প্রার্থনার পর বিষয়টিতে আর আইনি বা রাজনৈতিক জলঘোলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল সহ-সভাপতি প্রসেনজিৎ সরকার জানিয়েছেন, যেহেতু অভিযুক্ত নেতা নিজেই সবার সামনে ভুল স্বীকার করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাই বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা বদলের পর তৃণমূল নেতার এভাবে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাটি ওই এলাকায় শাসক দলের মনস্তাত্ত্বিক বিজয় নিশ্চিত করল এবং এর ফলে আপাতত একটি বড়সড় রাজনৈতিক সংঘাত এড়ানো সম্ভব হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *