উদ্ধব শিবিরে আবার বড় ভাঙনের ইঙ্গিত, তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিলেন সঞ্জয় রাউত

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও এক বড়সড় রাজনৈতিক ডামাডোলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিব সেনা শিবিরে নতুন করে ভাঙনের জল্পনা তীব্র হতেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত। দলের সম্ভাব্য ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন যে বেইমানি এবং অসততা ওদের রক্তে রয়েছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, উদ্ধব শিবিরের অন্তত ৭ জন সাংসদ শীঘ্রই দলবদল করে একনাথ শিণ্ডের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দিতে পারেন। এই জল্পনার মধ্যেই দিল্লিতে দলীয় সাংসদদের জরুরি তলব করেছে উদ্ধব সেনা।
ভাঙনের নেপথ্যে ‘অপারেশন টাইগার’
মহারাষ্ট্রের শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে এই দলবদলের বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলে দাবি করা হয়েছে। একনাথ শিণ্ডের শিব সেনার এমএলসি কৃপাল তুমানে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে জানিয়েছেন যে দলবদলের আলোচনা প্রক্রিয়া একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই ৭ জন সাংসদ শিবির বদল করবেন। রাজনৈতিক মহলে এই প্রক্রিয়াটি ‘অপারেশন টাইগার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। সূত্র মারফত জানা গেছে, সঞ্জয় দিনা পাটিল, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাটিল, ওমরাজে নিম্বলকর, ভৌসাহেব ওয়াকচৌর এবং সঞ্জয় যাদবের মতো সাংসদরা শিণ্ডে শিবিরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। দিল্লির এক বিশেষ বৈঠকে এই বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডে এবং শ্রীকান্ত শিণ্ডে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যার পর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গেও তাঁদের দেখা করার কথা রয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই সম্ভাব্য ভাঙন রুখতে এবং দলের অন্দরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে উদ্ধব শিবির। সঞ্জয় রাউত স্পষ্ট জানিয়েছেন যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা চলে যেতেই পারেন, কিন্তু দলের প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব ঠাকরে এবং উদ্ধব ঠাকরের প্রতি আনুগত্য অটুট থাকা উচিত ছিল। দল ভাঙার এই জল্পনার মাঝেই উদ্ধব সেনার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ শুরু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নির্ধারিত সংসদীয় দলের বৈঠকের আগে কড়া হুইপ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাঙন সত্যি হলে তা লোকসভায় উদ্ধব ঠাকরের দলের শক্তিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করবে এবং মহারাষ্ট্রের আগামী রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।