তৃণমূল ভবন ছাড়ার জল্পনা ওড়ানো হলেও ঢাকা হচ্ছে চেনা সবুজ রং

তৃণমূল ভবন ছাড়ার জল্পনা ওড়ানো হলেও ঢাকা হচ্ছে চেনা সবুজ রং

১৫ বছর পর রাজ্যের ক্ষমতা হারানোর ধাক্কার মাঝেই এবার খোদ ‘তৃণমূল ভবন’ নিয়ে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকার যে বহুতল ভবনে মমতার দলের সদর কার্যালয় অবস্থিত, সেটি তারা ছাড়তে চলেছে কি না—এই প্রশ্নে গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে, ভবনটি থেকে হঠাৎ জিনিসপত্র সরানো এবং বাইরের চেনা সবুজ রং সাদা করে দেওয়ার ঘটনা এই গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী কার্যালয় এখানেই থাকছে।

জল্পনার সূত্রপাত ও নেপথ্য কারণ

দক্ষিণ কলকাতার এক ডেকোরেটিং সংস্থার মালিক তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন মনোতোষ সাহা ওরফে মন্টু সাহার এই বহুতল ভবনে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে চলছে তৃণমূলের দলীয় কার্যক্রম। সম্প্রতি নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর থেকেই রটে যায় যে, ভবনের চুক্তির মেয়াদ শেষ এবং তা আর নবীকরণ করা হচ্ছে না। এই গুঞ্জনের মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে বহুতলটির চার ও পাঁচতলা থেকে তড়িঘড়ি জিনিসপত্র বের করতে দেখা যায়। একই সঙ্গে ভবনের বাইরের সবুজ রং আড়াল করে সাদা প্রাইমার লাগানোর কাজ শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনার পারদ চড়তে থাকে।

তৃণমূলের সাফাই ও চুক্তির মেয়াদ

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তৃণমূল ভবনের ইনচার্জ সুবীর মজুমদার। কার্যালয় স্থানান্তরের দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে তিনি জানান, বহুতলটির নিচতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত তৃণমূল ব্যবহার করে এবং চার ও পাঁচতলা মালিকের নিজস্ব অধীনে রয়েছে। মূলত মালিকের অংশ থেকেই জিনিসপত্র সরানো হয়েছে এবং ভবন মেরামতের স্বার্থেই বাইরের রং বদলানো হচ্ছে। ২০২৫ সালে চুক্তি শেষের তথ্যকে ভুল প্রমাণিত করে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মালিকের সঙ্গে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তাঁদের আইনি চুক্তি রয়েছে। ফলে তৃণমূল ভবন আপাতত এই ঠিকানাতেই বহাল থাকছে।

সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

ক্ষমতাচ্যুতির পর এই ধরনের প্রশাসনিক বা পরিকাঠামো গত জটিলতা দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল সাময়িকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং চুক্তির মেয়াদ প্রকাশ করার ফলে ধোঁয়াশা অনেকটাই কেটেছে। আপাতত ভবনের নিচে জ্বলজ্বল করছে দলীয় নাম এবং উড়ছে পতাকা, যা কর্মীদের আশ্বস্ত রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *