চুক্তির দুদিন আগে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি, উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি

সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরের মাত্র দুই দিন আগে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জি৭ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ইরানকে সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। শান্তিচুক্তি এখনো চূড়ান্ত নয় উল্লেখ করে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, চুক্তিটি যদি তাঁর পছন্দ না হয় কিংবা ইরান সঠিক আচরণ না করে, তবে তাদের ওপর বোমা হামলা চালানো হবে। গত ৪৭ বছর ধরে ইরান আন্তর্জাতিক মহলে দুর্ব্যবহার করে আসছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে আবারও বড় ধরনের অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চুক্তির শর্ত ও পরমাণু প্রসঙ্গ
দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি ১৪টি বিষয়ের ওপর ভার্চুয়ালি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরান, লেবাননসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটানো। খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, আমেরিকা ও ইজরায়েল নতুন করে কোনো যুদ্ধ না করার নিশ্চয়তা দেবে এবং হরমুজ প্রণালীর অবরোধ তুলে নিয়ে ইরানের জাহাজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। বিনিময়ে ইরানও হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এছাড়া, ইরানের বাজেয়াপ্ত হওয়া ২৪ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া এবং ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে চুক্তির সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রসঙ্গ, যেখানে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
হুমকির কারণ ও সম্ভাব্য বৈশ্বিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন বন্ধে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রাখতেই ট্রাম্প চুক্তি স্বাক্ষরের আগমুহূর্তে এই রণকৌশলগত হুমকি দিয়েছেন। দীর্ঘ ৪৭ বছরের কূটনৈতিক দূরত্বের কারণে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ট্রাম্পের ওপর একটি কঠোর অবস্থান বজায় রাখার চাপ রয়েছে। তবে এই হুমকির ফলে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তিটি সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত না হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীতে আবারও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া থমকে গিয়ে ইজরায়েল, ইরান ও লেবানন সীমান্তে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটাতে পারে।