যোগ দিবসে হাজিরা বাধ্যতামূলক কেন, নবান্নের নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে সরকারি কর্মীরা

যোগ দিবসে হাজিরা বাধ্যতামূলক কেন, নবান্নের নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে সরকারি কর্মীরা

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদ্‌যাপন ঘিরে কলকাতায় সাজো সাজো রব। আগামী ২১ জুন রেড রোডের মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের। তবে এই মেগা অনুষ্ঠান ঘিরেই এবার আইনি জটিলতা তৈরি হলো। যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করে নবান্ন যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মীদের সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটি। সংগঠনের দাবি, এই যোগদান বাধ্যতামূলক না করে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক করা হোক।

নবান্নের কড়া নির্দেশিকা ও মামলার প্রেক্ষাপট

নবান্নের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২১ জুন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৮টা পর্যন্ত সমস্ত সরকারি কর্মীকে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, আবাসন, রেড রোড কিংবা মেলা প্রাঙ্গনে উপস্থিত থাকতে হবে। এই নির্দেশ কেবল স্থায়ী কর্মীদের জন্য নয়; চুক্তিভিত্তিক, দৈনিক মজুরিভিত্তিক, আউটসোর্সড এবং সম্মানিকের বিনিময়ে কর্মরত কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য করা হয়েছে। সরকারের এই সর্বাত্মক নির্দেশিকার বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছে কো-অর্ডিনেশন কমিটি। বৃহস্পতিবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

বাধ্যতামূলক উপস্থিতির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

কলকাতায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের যৌথ উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে বড় মাপের সফল ইভেন্ট হিসেবে তুলে ধরাই নবান্নের এই নির্দেশিকার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কর্মীবন্ধুদের একাংশের মতে, ছুটির দিনে বা ভোরে এভাবে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত কর্মীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল। এই আইনি লড়াইয়ের ফলে একদিকে যেমন সরকারি মহলে প্রশাসনিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে হাই কোর্টের রায়ের ওপর নির্ভর করছে ২১ জুনের অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মীদের উপস্থিতির ভবিষ্যৎ। এখন আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সব পক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *